ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি যৌথ অভিযানে বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয় পদার্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ঘোষণায় বলা হয়, কারাকাসের একটি পুরোনো গবেষণা চুল্লি থেকে প্রায় ১৩.৫ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার যৌথ এই অভিযানকে ওয়াশিংটন বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই অভিযান স্থল ও জলপথে সম্পন্ন করা হয়। উদ্ধার করা ইউরেনিয়াম বর্তমানে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগের একটি নিরাপদ কমপ্লেক্সে সংরক্ষিত আছে।
মার্কিন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক কর্মকর্তা এই অভিযানকে ‘পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে জ্বালানি ও খনি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এই অভিযানের সাফল্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, ইরানের হাতে থাকা উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সফল হয়নি, যা বড় কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলেও ভেনেজুয়েলা অভিযান সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। অন্যদিকে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রপন্থী মহল বলছে, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে পাশ কাটিয়ে এই ধরনের সামরিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান