আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতির শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নয়, বরং দুই নেতার মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
রোববার (১০ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজয় থালাপতি ও রাহুল গান্ধীর সম্পর্ক বহু পুরনো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০০৯ সালে বিজয় এক সময় কংগ্রেস দলে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়। যদিও তখন সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি, তবে সময়ের ব্যবধানে দুই নেতার রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন পথে গেলেও যোগাযোগ বজায় থাকে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনী রাজনীতিতে কঠিন সময় পার করা বিজয় থালাপতির প্রতি রাহুল গান্ধীর আস্থা তৈরি হয়েছে। বিজয় নিজেও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, সংকটকালীন সময়ে রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা তার রাজনৈতিক সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। এই পারস্পরিক আস্থাই বর্তমানে তাদের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ভারতে কংগ্রেসের দুর্বল অবস্থান পুনরুদ্ধারে রাহুল গান্ধী নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তুলছেন, যেখানে বিজয় থালাপতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। অন্যদিকে বিজয় নিজেকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন, যেখানে কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিজয় থালাপতির বড় জয় নিশ্চিত হওয়ার পর রাহুল গান্ধী তার সঙ্গে অন্তত তিনবার ফোনে কথা বলেছেন। এমনকি সরকার গঠনের প্রাথমিক আলোচনার সময়ও দুই নেতার মধ্যে যোগাযোগ হয় বলে জানা গেছে। বিজয় তাকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান।
পরবর্তীতে রাহুল গান্ধী শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি চেন্নাইয়ে আয়োজিত সেই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উপস্থিতি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য জোট ও সমঝোতার ইঙ্গিতও বহন করছে।
আকাশজমিন / আরআর