গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মরদেহ গোপালগঞ্জে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহতরা হলেন শারমিন আক্তার (৩৫), তার তিন সন্তান মিম আক্তার (১৫), মারিয়া (১২) ও ফারিয়া (১) এবং শারমিনের ভাই রসুল হোসেন। তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৯ মে) ভোরে গাজীপুর থেকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। মরদেহ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে এবং এলাকাবাসী একে একে বাড়িতে ভিড় জমায়। একসঙ্গে পাঁচজনের মরদেহ দেখে অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, শারমিন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী ফোরকান মিয়ার সঙ্গে গাজীপুরে বসবাস করতেন। তবে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ছিল বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনিই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে ফোরকান মিয়া তার শ্যালক রসুল হোসেনকে চাকরির কথা বলে বাসায় ডেকে নেন। এরপর রাতের কোনো এক সময় শারমিন আক্তার, তার তিন সন্তান এবং রসুল হোসেনকে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে দাবি করা হয়।
পরদিন সকালে ঘটনাটি প্রকাশ পেলে এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে খবর পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দাফন উপলক্ষে এলাকায় হাজারো মানুষ জড়ো হন।
জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। উপস্থিত অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আকাশজমিন / আরআর