আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিস্ফোরণের পরপরই বন্দুকধারীরা অতর্কিত গুলিবর্ষণ চালায়, ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। খবরটি জানিয়েছে রয়টার্স ও দ্য ট্রিবিউন।
শনিবার রাতে বান্নু শহরের উপকণ্ঠে একটি পুলিশ ফাঁড়িকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানান, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি ফাঁড়ির সামনে এসে বিস্ফোরিত হলে পুরো ভবনের ছাদ ধসে পড়ে। এতে ভেতরে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা চাপা পড়ে গুরুতরভাবে আহত হন এবং অনেকেই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিস্ফোরণের কয়েক মুহূর্ত পরই একদল সশস্ত্র হামলাকারী ফাঁড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালাতে শুরু করে। এ সময় উদ্ধার কার্যক্রমে আসা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়, ফলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হামলার সময় ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে হামলাকারীরা দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালাতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বান্নুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেখানে জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং আহতদের চিকিৎসায় অতিরিক্ত মেডিকেল টিম কাজ করছে। এদিকে ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদীন নামের একটি জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সরকারিভাবে বিষয়টি এখনও যাচাই করা হচ্ছে।
এই হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখওয়া অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সহিংস ঘটনার পর এটি সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা আবারও বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, জঙ্গিবাদ মূলত পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। এই হামলার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আকাশজমিন / আরআর