ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঝড়-বৃষ্টিতে নুয়ে পড়া ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক


  • আপলোড সময় : রবিবার ১০ মে, ২০২৬ সময় : ৪:৪৬ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটা শুরু হলেও শ্রমিক সংকট ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। চলনবিল অধ্যুষিত এই উপজেলায় বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এখন সোনালী ধানে ভরে উঠলেও সময়মতো কাটতে না পারায় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতোমধ্যেই আগাম জাতের বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে শুরুতেই শ্রমিক সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা। অনেকেই দূর-দূরান্তে গিয়ে ধান কাটার শ্রমিক সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, সাথিয়া, বেড়া, কাজিপুর ও শাহজাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক আনার চেষ্টা চলছে।

কৃষকেরা জানান, শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক জমির ধান নুয়ে পড়েছে, ফলে হারভেস্টার দিয়েও সব জমিতে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। এতে সময়মতো ধান না কাটলে জমিতেই ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, ব্রি-৮৯, ব্রি-৯০, কাটারিভোগ, সুবললতা, রড মিনিকেটসহ বিভিন্ন জাতের বোরো ধান চাষ করা হয়েছে।

মাধাইনগর ইউনিয়নের ভাদাস গ্রামের কৃষক শফিক জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না। তিনি বলেন, দুই বিঘা জমির ধান কাটতে দুই দিন খোঁজার পর শ্রমিক পেয়েছি। প্রতি বিঘায় ৭ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে, তবে নুয়ে পড়া ধান হলে খরচ আরও বেড়ে যায়।

রানীদিঘী গ্রামের কৃষক গোলাম রব্বানী বলেন, এবার ধানের বাজার ভালো না এবং শ্রমিক খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘায় ফলন ২২ থেকে ২৪ মণ হলেও দাম কম থাকায় লাভ হচ্ছে না।

তালম ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রতি বিঘায় ধান কাটাতে ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি মণ ধান কাটার শ্রমিকদের ৭ থেকে ১০ কেজি ধান দিতে হচ্ছে।

অন্যদিকে হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটা গেলেও খড় নষ্ট হওয়ায় অনেক কৃষক শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে জমিতে পানি জমে থাকা ও ধান নুয়ে পড়ায় বেশ কিছু এলাকায় হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শমিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, এখন পর্যন্ত ২৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে প্রায় ৬০ শতাংশ নিচু জমির ধান নুয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিক সংকট রয়েছে এবং বাইরে থেকে শ্রমিক না আসায় সমস্যা বেড়েছে। কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর