লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে। একইসঙ্গে চিকিৎসাকর্মী ও প্যারামেডিকদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও বাড়ছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, সাম্প্রতিক হামলাগুলো সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জীবনকেও হুমকির মুখে ফেলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের বিন্ত জবেইল জেলার কালাউইয়া এবং তিবনিন এলাকার দুটি স্থানে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুইজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গত ১৬ এপ্রিল থেকে ইসরায়েল সরকার ও হিজবুল্লাহ-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষের হয়ে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে যুদ্ধবিরতির পরও দুই পক্ষ একাধিকবার একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলেছে। ফলে পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল রয়েছে।
বর্তমানে চলমান যুদ্ধবিরতি তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। কিন্তু সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৮৪৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ১৩০টিরও বেশি ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০৩ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং আরও ২৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বেসামরিক নাগরিক ও চিকিৎসাসেবাকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস ও চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।