সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 47
রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ জেলায় হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৩ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮৩ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু হলেও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪২৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৮ জন রোগী। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও টিকা গ্রহণ করা গেলে জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
রোববার (১০ মে) সিরাজগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ২০ মার্চ থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। আগামী ২০ মে পর্যন্ত চলমান এ কর্মসূচির আওতায় জেলার প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার শিশুকে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সংক্রমণের হার দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, “সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন, সদর হাসপাতালে ৪ জন, শাহজাদপুরে ২ জন, তাড়াশে ২ জন, উল্লাপাড়ায় ৩ জন, বেলকুচিতে ২ জন এবং রায়গঞ্জে ১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, হামের বিস্তার রোধে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে দানা, চোখ লাল হওয়া, সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, দেরি হলে রোগটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
এদিকে হামের সংক্রমণ বাড়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলো। অনেকেই দ্রুত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে সন্তানদের নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ আগাম সতর্কতা হিসেবে শিশুদের জনসমাগম থেকে দূরে রাখছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামের বিস্তার মূলত টিকা গ্রহণের হার কমে যাওয়া এবং কিছু এলাকায় টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমী পরিবর্তন ও জনসচেতনতার অভাবও সংক্রমণ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টিকা গ্রহণ না করলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহসহ নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে। তাই প্রতিটি শিশুকে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা প্রদানের পাশাপাশি সচেতনতা কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সংক্রমণের হার অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত টিকাদান এবং রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হামের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
আকাশজমিন
/ আরআর