কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সরকারিভাবে চলতি বোরো মৌসুমের ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) দুপুরে কটিয়াদী উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলীজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এমপি। তিনি ফিতা কেটে এবং কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও চাল মাপার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৪৭২ জন কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে মোট ১ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া উপজেলার ৩টি অটো রাইস মিল ও ৪টি হাসকিং মিলের মাধ্যমে প্রতি কেজি চাল ৪৯ টাকা দরে মোট ৩ হাজার ৫১ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কনক কান্তি দেবনাথ বলেন, সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ফলে মানসম্মত ধান-চাল সংগ্রহ এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কিছুটা চ্যালেঞ্জের হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, গুদাম পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত ওসিএলএসডি ছানোয়ার হোসেন, বিভিন্ন রাইস মিল ও হাসকিং মিলের মালিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রণোদনা ও ভর্তুকির ঘোষণা দিয়েছে। এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের পক্ষ থেকে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং তারা নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা খাদ্য গুদামের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। তারা বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে কৃষক ও সরকারের উভয়েরই উপকার হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।