নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে নিরোধ এবং সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় “জাতীয় ক্যাম্পেইন-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সকালে শহরের নবারুণ স্কুলের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক নাটক প্রদর্শন, সিগনেচার ক্যাম্পেইন, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ এবং মানবাধিকার বিষয়ক স্টল প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের মানবাধিকার ও সামাজিক অংশগ্রহণ শক্তিশালীকরণ (হোপ) প্রকল্পের আওতায় এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত। তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।
সদর উপজেলা সিএসও কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজা পারভীন লিপির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল হাসান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিনিধি তাহরিমা খাতুন, হোপ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী খালিদ হোসেন, এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোখলেসুর রহমান পিন্টু, তাহেরা সিদ্দিকা, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর ইস্রাফিল গাজী, ফাতেমা আমজাদ ও সোনিয়া পারভীনসহ অনেকে।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, নারী প্রতিনিধিসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন এবং সহিংসতা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাদের মতে, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা কেবল পারিবারিক সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি, যা সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।
তারা আরও বলেন, বাল্যবিয়ে একটি মেয়ের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেয়। তাই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রান্তিক অঞ্চলে নারীদের অধিকার রক্ষায় এবং তাদের সুরক্ষায় “হোপ” প্রকল্পের মতো উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব উদ্যোগ নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা করছে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠনের জন্য শুধু প্রকল্প বা প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এর জন্য যুবসমাজ ও পুরুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। যেকোনো অন্যায় ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে এবং সামাজিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা মানবাধিকার রক্ষায় সচেতন থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সমাজে সহিংসতা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।