কুমিল্লার ধর্মপুর থেকে ঝাঁগুরঝুলি সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খানা-খন্দ ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের। বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদা-পানিতে সড়কটি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে, ফলে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে অসুস্থ মানুষের যাতায়াতের জন্য সড়কটি প্রায় অযোগ্য হয়ে উঠেছে। জরুরি রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও মারাত্মক বাধার সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে আছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। সামান্য বৃষ্টিতেই বড় বড় গর্তে পানি জমে গিয়ে যানবাহন আটকে যায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
এ কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে যানবাহন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানমাল। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও সময় ক্ষতির কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
যেহেতু সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে সরাসরি সংযুক্ত, তাই এটি কুমিল্লা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ হিসেবে বিবেচিত। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে, যা আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সড়কের আশপাশে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ফলে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে শহরে যাতায়াত করে থাকেন। সড়কের দুরবস্থার কারণে অনেকেই সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েন এবং বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হন।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় থেকে সড়কটি বেহাল অবস্থায় থাকলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে জনগণের মধ্যে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এমনকি সড়কের পাশে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বাসা থাকলেও সংস্কার কাজে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। তারা মনে করেন, দায়িত্বশীল মহলের উদাসীনতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
স্থানীয় জনগণ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং কুমিল্লা-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও মেরামতের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।
স্থানীয়রা আরও জানান, সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষতি অব্যাহত থাকবে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান।
এদিকে এলাকাবাসীর মতে, সড়কটির বর্তমান অবস্থা শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা নয় বরং এটি পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। দ্রুত সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সড়কটি কুমিল্লা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই অবিলম্বে মানসম্মত নির্মাণকাজ শুরু করা হলে জনদুর্ভোগ কমবে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বচ্ছ পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
সড়কটির দুরবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে এ অঞ্চলের শিক্ষা কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
তাই এলাকাবাসীর দাবি, এই সড়ককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এনে দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হোক। তাদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ নিলে ধর্মপুর-ঝাঁগুরঝুলি সড়কটি আবারও স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে বলে তারা মনে করছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা দ্রুত বাস্তবায়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। তারা দ্রুত কার্যকর সমাধান চান অবিলম্বে এখন।