বাংলা নাট্যাঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব Ataur Rahman আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা Rawnak Hasan এবং অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক Rashed Mamun Apu।
আতাউর রহমানের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সহকর্মী, নাট্যজন ও সংস্কৃতিকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন।
রওনক হাসান শোক প্রকাশ করে বলেন, “না ফেরার দেশে চলে গেলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মঞ্চের প্রেরণাদায়ী সারথি আতাউর রহমান। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।”
এর আগে সোমবার বিকেলে আতাউর রহমানের গুরুতর অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান।
তিনি জানিয়েছিলেন, তার বাবার শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকরা পরিস্থিতিকে সংকটাপন্ন বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়।
জানা গেছে, গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় পরে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবার অবস্থার অবনতি হলে রোববার (১০ মে) তাকে পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত দুই দিন পর চিরবিদায় নিলেন এই গুণী শিল্পী।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন আতাউর রহমান। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ছিলেন একাধারে অভিনেতা, নাট্যকার, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক।
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। নাটকের ভাষা, উপস্থাপনা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় তিনি নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন। অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক রচনা ও মঞ্চায়নের মাধ্যমে তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।
দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।