কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার রাসেল মুন্সী হত্যা মামলায় সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তের আলামত নিহত রাসেল মুন্সীর ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মিলে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই বৈজ্ঞানিক ফলাফল মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার আদালতে এ মামলার এক আসামির জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালিত ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা রক্তের নমুনা রাসেল মুন্সীর ডিএনএ-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল ও আলামত সম্পর্কে তদন্তকারীদের ধারণা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিএনএ রিপোর্ট মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সময়, স্থান এবং ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলোতে এই বৈজ্ঞানিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে মামলার অন্যতম আলোচিত সন্দেহভাজন আসামি বাবুল আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন। তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তিনি এখনো কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে তিনি আগামীকাল কারামুক্ত হতে পারেন।
আসামির জামিনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিহত রাসেল মুন্সীর পরিবার। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, বাবুল মুক্তি পেলে তিনি আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন অথবা মামলার সাক্ষী ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারেন। এ কারণে তারা তার জামিন বাতিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
রাসেল মুন্সীর স্ত্রী বলেন, তারা চান সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক। তার মতে, প্রধান সন্দেহভাজন বাইরে থাকলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহারং এলাকার বাসিন্দা রাসেল মুন্সীর হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। শুরু থেকেই পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।
মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি এবং সিআইডির ডিএনএ রিপোর্ট প্রকাশের পর নিহতের স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা মনে করছেন, বৈজ্ঞানিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করবে এবং আদালতের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আকাশজমিন / আরআর