ফেনীতে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাফেজিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতরা হলেন সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের নুরুল হুদার ছেলে নুর আলম এবং তার ছেলে নিরব। নুর আলম পেশায় একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক ছিলেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন নুর আলমের ভাগিনা আফজাল মিঠু। তাকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুর আলম তার ছেলে ও ভাগিনাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ফেনীর দিকে ফিরছিলেন। তারা বোনের বাড়ি ভাঙার তাকিয়া এলাকা থেকে রওনা হন। পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাফেজিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নুর আলম নিহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার ছেলে নিরবের মৃত্যু হয়। আহত আফজাল মিঠুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাসটির চালক যানবাহনটি থামিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং লাশ উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। তারা মহাসড়কে কঠোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও গতি সীমা কার্যকর করার দাবি জানান।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে নিহত নুর আলম ও তার ছেলে নিরবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয়রা বলেন, এক মুহূর্তের দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের দুই সদস্য হারিয়ে যাওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে নজরদারি বাড়ানো এবং চালকদের আরও সতর্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।