মোঃ সাজ্জাদ হোসেন , গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আড়ৎদার কর্তৃক পিঁয়াজ-রসুনে ধলতা প্রথা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চরাঞ্চলসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কৃষকরা। তারা এ প্রথাকে অন্যায্য দাবি করে অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান।
গোয়ালন্দ বাজার আড়ৎ পট্টিতে দেখা যায়, কৃষক এক মন পেঁয়াজ আনলে ওজনের সময় ধলতা হিসেবে ২ কেজি পেঁয়াজ কেটে নেওয়া হয় এবং এক মন রসুনে ১ কেজি বেশি ধরা হয়। অর্থাৎ আড়ৎদাররা পেঁয়াজে ৪২ কেজিতে এক মন এবং রসুনে ৪১ কেজিতে এক মন ধরে দাম নির্ধারণ করেন। এতে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উজানচর চর কর্নেশন এলাকার পেঁয়াজ চাষী মোহাম্মদ আলী বলেন, “রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পেঁয়াজ চাষ করি। কাটা, শুকানো, পরিবহন—সব খরচ বহন করে বাজারে আনি। কিন্তু আড়ৎদাররা ৪২ কেজিতে এক মন ধরে ২ কেজি কেটে রাখে। এতে আমরা লোকসানে পড়ছি।”
চর মহিদাপুরের আরেক চাষী মোঃ শাজাহান শেখ বলেন, “বাড়ি থেকে এক মন রসুন এনে বিক্রি করার পর ওজনের আগেই ১ কেজি কেটে রাখা হয়। রসুনের দাম এমনিতেই কম, তার ওপর খাজনা ও পরিবহন খরচ আছে। এখন ধলতা যোগ হওয়ায় আমরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
অন্য কৃষকরাও অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ ধলতা প্রথা বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ন্যায্যমূল্য না পেলে কৃষি উৎপাদনে আগ্রহ কমে যাবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, দুই-এক দিনের মধ্যে বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, আড়ৎদার ও কৃষকদের নিয়ে সভা করা হবে। সেখানে ধলতা প্রথা বন্ধে সতর্ক করা হবে। এরপরও কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশজমিন / আরআর