ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

যুদ্ধের মধ্যেই গোপনে আমিরাত সফর করেন নেতানিয়াহু


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ সময় : ১০:২৯ এএম

ইরানের সঙ্গে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (১৩ মে) নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নেতানিয়াহুর দপ্তরের দাবি, সফরকালে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে “ঐতিহাসিক ব্রেকথ্রু” হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে নেতানিয়াহুর এমন দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যে ধরনের গোপন সফরের কথা বলা হচ্ছে, তার কোনো বাস্তবতা নেই। তারা বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কোনো গোপন বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় না।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক প্রকাশ্য এবং আব্রাহাম চুক্তির কাঠামোর মধ্য দিয়েই পরিচালিত হয়। আমাদের সম্পর্ক কোনো অস্পষ্ট বা গোপন যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল নয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের তথ্য প্রকাশ এবং পরবর্তীতে আমিরাতের অস্বীকৃতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। কারণ যুদ্ধের সময় অঞ্চলটির দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক নজরদারি চলছে।

যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একাধিক হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েল আমিরাতে ‘আয়রন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে বলেও জানা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমিরাতে মোতায়েন করা হয়। শুধু তাই নয়, সেগুলো পরিচালনার জন্য ইসরায়েলি সেনারাও দেশটিতে প্রবেশ করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায় ২০২০ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সে সময় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে আমিরাত। এই চুক্তি ‘আব্রাহাম চুক্তি’ নামে পরিচিত। পরে একই উদ্যোগে বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে এগিয়ে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক ও কৌশলগত জোট তৈরি হলেও ইরান এটিকে নিজেদের বিরুদ্ধে একটি বড় আঞ্চলিক অবস্থান হিসেবে দেখছে। ফলে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও আরব মিত্রদের যেকোনো ধরনের ঘনিষ্ঠতা এখন তেহরানের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

নেতানিয়াহুর কথিত গোপন সফর নিয়ে ইসরায়েল ও আমিরাতের বিপরীতমুখী অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। আদৌ এমন বৈঠক হয়েছিল কি না, কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে কি না—তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।

সূত্র: BBC


এ সম্পর্কিত আরো খবর