খুলনার পাইকগাছা উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস নির্ধারিত অফিস সময়েও তালাবদ্ধ থাকায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও প্রশিক্ষণপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে গিয়ে দেখা যায়, পুরো অফিস বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নেই। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে সকাল থেকেই অনেক মানুষ যুব উন্নয়ন অফিসে আসেন। কেউ যুব ঋণের বিষয়ে খোঁজ নিতে, কেউ প্রশিক্ষণে ভর্তি হতে, আবার কেউ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে এসেছিলেন। কিন্তু অফিস বন্ধ থাকায় তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান।
সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, সরকারি অফিস হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত এমন অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে উপস্থিত না থাকায় জনসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশেষ করে বেকার যুবক ও প্রশিক্ষণপ্রত্যাশীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, দূরদূরান্ত থেকে এসে অফিস বন্ধ পাওয়ায় সময় ও অর্থ দুই-ই নষ্ট হয়েছে। অনেকে সকাল থেকেই অপেক্ষা করলেও কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দেখা মেলেনি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অফিসে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। তারা বলছেন, জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অফিস বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পাইকগাছা উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের মাধ্যমে এলাকার তরুণদের প্রশিক্ষণ, স্বল্পসুদে ঋণ ও কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ এই অফিসে আসেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে অফিস বন্ধ থাকায় সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারি অফিসে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন অনেকে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যেন এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং নির্ধারিত সময়েই সরকারি সেবা নিশ্চিত করা হয়।
আকাশজমিন /
আরআর