ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ফরিদপুরে ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড


ফরিদপুর, ১২ বছর বয়সী, এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে হাফেজ মাওলানা আলী

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ সময় : ৬:০৮ পিএম

ফরিদপুর প্রতিনিধি 

ফরিদপুরে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে হাফেজ মাওলানা আলী হোসেন (৫৯) নামে এক মসজিদের ইমামকে  ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার  দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আলী হোসেন ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার বড় কামইদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের মসজিদে ইমামতি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।পাশাপাশি মসজিদ সংলগ্ন একটি টিনের ঘরে সে মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি সালথা উপজেলার বাগেুনূরী মদিনা কওমী মাদ্রাসার হেফজখানার ছাত্র ছিল। ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে শিশুটি তার বাড়ির পাশে  আলী হোসেনের দোকানে যায়। এ সময় কৌশলে শিশুটিকে দোকানের পাশে মসজিদের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান আলী হোসেন। মসজিদের ভেতরে চৌকির ওপর শুইয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি।

এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইমামকে আটম করে থানায় নেয়।

এই ঘটনায় ওই দিনই (৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আলী হোসেনকে একমাত্র আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। 

এ মামলাটি তদন্ত করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক(এসআই )নূর মোহাম্মদ। তদন্ত শেষে আলী হোসেনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি আদালতে অভিযোগপত্র(চার্জশিট) দাখিল করেন।

আদালত বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষ  করে আজ এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।রায় ঘোষণার  পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ( পিপি) গোলাম রব্বানী  বলেন,এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। 

তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তায় এবং সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।এসব অপরাধ  দমনে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর