ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

বাড়ির আঙিনায় আঙুর ফলিয়ে তাক লাগালেন শামীম হোসেন


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ সময় : ৮:০০ পিএম

আসাদুজ্জামান সরদার, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

শখ থেকে শুরু, এখন তা পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক সাফল্যে। সাতক্ষীরার কলারোয়ার বোয়ালিয়া গ্রামে বাড়ির আঙিনায় আঙুর চাষ করে আলোচনায় এসেছেন শামীম হোসেন। মাত্র কয়েকটি চারা রোপণ করে শুরু করা তার এই উদ্যোগ এক বছরের ব্যবধানে এখন স্থানীয় কৃষি ক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শামীম হোসেনের বাড়ির উঠানে লাগানো পাঁচটি ভিন্ন জাতের আঙুর গাছে ঝুলে আছে পুষ্ট আঙুরের থোকা। শখের বশে শুরু করা এই চাষ এখন পরিণত হয়েছে সফল একটি উদাহরণে। গাছগুলোতে যে পরিমাণ ফলন এসেছে, তা দেখে স্থানীয়রাও বিস্মিত।

শামীম হোসেন জানান, শুরুতে এটি ছিল শুধুই শখ। কয়েকটি চারা রোপণ করে নিয়মিত যত্ন ও পরিচর্যা করতেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। মাত্র দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচে তিনি এই চাষ শুরু করেন। এখন এটি তার ভবিষ্যতের আয়ের একটি বড় উৎস হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, আঙুরগুলো স্বাদে মিষ্টি ও সুস্বাদু। শুরুতে এত ফলন হবে তা তিনি কল্পনাও করেননি। তবে নিয়মিত পরিচর্যা ও আগ্রহ তাকে সফলতার পথে এগিয়ে নিয়েছে।

তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। অনেকেই এখন বাড়ির আঙিনায় বা পতিত জমিতে আঙুর চাষের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন। স্থানীয় কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তারা শামীমের সফলতাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আরফি মাহমুদ বলেন, শামীমের এই উদ্যোগ এলাকার জন্য একটি দৃষ্টান্ত। বাড়ির ছোট জায়গাতেও যে উন্নত জাতের ফল চাষ করা সম্ভব, তিনি তা প্রমাণ করেছেন। এটি তরুণদের কৃষিতে আগ্রহী করে তুলবে বলে তিনি মনে করেন।

শামীম হোসেন এখন এই চাষকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন। তিনি বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ শুরু করতে চান, যাতে এটি আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হতে পারে। স্থানীয়রা মনে করছেন, তার এই উদ্যোগ সফল হলে সাতক্ষীরার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে।

কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিসার এনামুল হক বলেন, শামীম হোসেনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাংলাদেশে আঙুর চাষ সাধারণত উপযোগী নয় বলে ধরা হলেও তিনি তা প্রমাণ করেছেন যে সঠিক জাত নির্বাচন ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বাড়ির আঙিনাতেও আঙুর চাষ সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে শামীমকে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উন্নত জাত নির্বাচন, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং ফলন বৃদ্ধির বিষয়ে তাকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তার এই সাফল্য দেখে অন্যরাও যদি কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা তাদেরও সহযোগিতা করব।

স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। শামীম হোসেনের আঙুর চাষ এখন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।


এ সম্পর্কিত আরো খবর