ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এইচএসসিতে পাসের বড় বিপর্যয়: ফেল করেছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫.৯৮%, কমেছে পাস ও জিপিএ-৫ এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা বোর্ড, পেছনে বরিশাল এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য সুখবর উচ্চ মাধ্যমিকে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ শিক্ষার্থী এইচএসসি ফলে পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা, জিপিএ-৫ এ ছেলেরা বিনা ভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন বিএনপি দেখে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এইচএসসিতে ১৩৯ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস, কমেছে সাফল্যের হার মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩,২৫০ জন ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল, এইচএসসিতে এগিয়ে ছাত্রীরা

ড্রোন অনুপ্রবেশ ইস্যুতে লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ সময় : ৮:১১ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ড্রোন অনুপ্রবেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী এভিকা সিলিনা পদত্যাগ করেছেন। রাশিয়ায় হামলার সময় ইউক্রেনের কয়েকটি ড্রোন লাটভিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জোট সরকারের ভেতরে মতবিরোধের কারণে লাটভিয়ার সরকার কার্যত ভেঙে পড়ে, যার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে পূর্ব লাটভিয়ায় দুটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার পর। ওই ঘটনার পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রিস স্প্রাদসকে বরখাস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী এভিকা সিলিনা। তবে এই সিদ্ধান্তের পর তার নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের একটি অংশ, বিশেষ করে স্প্রাদসের দল দ্য প্রগ্রেসিভস, সরকারের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। এতে সংসদীয় সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে এবং সরকার কার্যত সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়।

আগামী অক্টোবর মাসে লাটভিয়ায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক মাস আগেই এই রাজনৈতিক সংকট সরকারকে চাপে ফেলে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যায়।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এভিকা সিলিনা বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদে একজন শক্তিশালী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিরোধের কারণে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি পদত্যাগ করছি, কিন্তু হাল ছাড়ছি না।”

ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত ৭ মে লাটভিয়ার আকাশসীমায় ইউক্রেনের তিনটি ড্রোন অনুপ্রবেশ করে। এসব ড্রোন মূলত রাশিয়াকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে সিগন্যাল জ্যাম এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ড্রোনগুলো পথভ্রষ্ট হয়ে লাটভিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।

লাটভিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই স্বীকার করেছে যে, ড্রোনগুলো সম্ভবত ইউক্রেনীয় ইউএভি ছিল। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই লাটভিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিরোধী দল ও জোট সরকারের একাংশ সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা লাটভিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এদিকে সরকারের পতনের পর লাটভিয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক সমঝোতা বা অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর