আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্তভাবে পরাজিত হবে এবং এই পরাজয় ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সায়ারি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (সিএও) পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ইত্তেফাক ডিজিটাল ডেস্ক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র। সফরকালে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতা, জাতীয় ঐক্য এবং প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে বক্তব্য দেন।
রিয়ার অ্যাডমিরাল সায়ারি বলেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা, অবিচলতা এবং জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণে যে কোনো যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হবে। তার ভাষায়, “ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরাজয় ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণের উচ্চ সামাজিক সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্য দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। সরকারের প্রতি জনগণের এই সংহতি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক ও সক্রিয় ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সায়ারি তার বক্তব্যে সম্প্রতি ‘ডেনা ডেস্ট্রয়ার’ রণতরীর শহীদদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি শহীদদের জানাজায় জনগণের বিপুল উপস্থিতিকে “মহাকাব্যিক” হিসেবে উল্লেখ করেন, যা জাতির ঐক্য ও শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন।
তিনি ইরানি নৌবাহিনীর কৌশলগত অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরে প্রথমবারের মতো ইরানি নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের কার্যক্রমকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্দেশনায় বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইরানি নৌবাহিনী বিশ্বকে তাদের সক্ষমতা দেখিয়েছে।
বাব আল-মানদাব প্রণালি ও লোহিত সাগর অতিক্রম করার সময় প্রতিপক্ষ শক্তির প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অস্থিরতা ও উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ” হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অতীত বৈদেশিক হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ভিয়েতনাম ও ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড ইতিহাসে নিন্দিত হয়েছে।
অ্যাডমিরাল সায়ারি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু দেশে হত্যাকাণ্ড, অভ্যুত্থান এবং অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রচেষ্টা সফল হবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইরানি জনগণের ঐক্য ও ধৈর্য রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের উচিত জনগণের এই সমর্থন ও সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা।