ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

ইরান ইস্যুতে ধৈর্য হারাচ্ছেন ট্রাম্প, বৈঠকে বড় বার্তা


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬ সময় : ৭:৪০ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তিনি ধৈর্য হারাচ্ছেন এবং দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক নৌ–ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে আলোচনা হয়।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে ট্রাম্প ও সি চিন পিং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এই প্রণালি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এই জলপথ কার্যত সীমিত করে রাখে বলে দাবি করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

চীন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা হওয়ায় বিষয়টি বৈশ্বিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইরান এখনো তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে সম্মত হয়নি। ফলে আলোচনার অগ্রগতি থমকে গেছে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

বৈঠকের পর একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানকে নিয়ে আর বেশি ধৈর্য ধরতে চান না এবং দ্রুত একটি চুক্তিতে আসা জরুরি। তাঁর ভাষায়, “আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটি চুক্তিতে আসা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন, তবে এটি নিয়ে অতিরিক্ত রাজনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন নেই; বরং নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওমান উপকূলের কাছে একটি কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় ওই জাহাজটি আফ্রিকা থেকে পশু নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছিল। ভারত জানিয়েছে, ১৪ জন ক্রুকে ওমানের কোস্টগার্ড উদ্ধার করেছে।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার ধারণা, জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা হয়ে থাকতে পারে, যার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। অন্য একটি নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, আরব আমিরাতের কাছে নোঙর করা একটি জাহাজে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা উঠে সেটিকে ইরানের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সি চিন পিং হরমুজ প্রণালির সামরিকীকরণের বিরোধিতা করেছেন এবং এ পথে কোনো ধরনের অতিরিক্ত টোল আরোপেরও বিরোধিতা করেছেন। পাশাপাশি ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে বেইজিং ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও ইরানের কৌশলগত সম্পর্কের কারণে বাস্তবে তেহরানের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা কঠিন হবে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ইস্যু ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। তাই তিনি কূটনৈতিকভাবে চীনের ভূমিকা কাজে লাগাতে চাইছেন। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক তেল সরবরাহের স্বার্থে চীন নিজেই হরমুজ প্রণালি স্থিতিশীল রাখতে আগ্রহী থাকবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর