নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম-সায়রাত সহকারী মোঃ সবুজ সরদারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানির অভিযোগ উঠেছে। একটি কথিত অনলাইন ফেসবুক পেজে আংশিক বক্তব্য প্রচার করে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজে যেসব ব্যক্তির বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের পূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন না করে আংশিক অংশ কেটে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা মোঃ সবুজ সরদার, পত্নীতলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল হোসেন এবং পত্নীতলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. রিফাত আরার কোনো বক্তব্য বা মতামত সেই অনলাইন পেজে নেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মনে তীব্র প্রশ্ন জেগেছে—যদি সত্যিই কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য না নিয়ে একতরফাভাবে কেন এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হলো?
অনলাইন পেজে যাদের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। ভিডিওতে বক্তব্য দেওয়া মোঃ মোতাহার নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি সবুজ সরদারের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ করেননি। তার ভাষায়, “সবুজ আমার কাছে কোনো টাকা চাননি। পুকুর লিজ নেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে একজন আমার বাসায় এসেছিল। আমি শুধু সে বিষয়ে কথা বলেছি। আমার বক্তব্য আংশিক কেটে নিজেদের মতো করে ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়েছে, এর দায় সম্পূর্ণ ওই পেজের, আমার নয়।” অন্যদিকে হামিদুর মাষ্টার নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, “আমি শুধু বলেছি সবুজ সরদারকে সেদিন অফিসে পাইনি—এটা সত্যি। তবে এ বিষয়ে আমি কোনো লিখিত অভিযোগ করিনি এবং তাকে জড়িয়ে কোনো দুর্নীতির কথা বলিনি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী মোঃ সবুজ সরদার বলেন, “আমি যদি কোনো অপরাধ বা অনিয়ম করে থাকি, তাহলে সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে সঠিক অনুসন্ধান করে তথ্য প্রকাশ করা, কাউকে এভাবে হয়রানি করা নয়। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ অনলাইনে ছড়ানো হয়েছে, সে বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এমনকি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। আমার একটি অডিও বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা মূলত প্রায় এক বছর আগের এবং সেটিও সম্পূর্ণ আংশিকভাবে কেটে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।”
পত্নীতলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল হোসেন (অন্যত্র জুয়েল মিয়া হিসেবে উল্লিখিত) জানান, “সবুজ সরদারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আমরা পাইনি। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অনলাইন মাধ্যমে যে পোস্টগুলো করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের কাছ থেকেও কোনো বক্তব্য বা অফিসিয়াল মতামত নেওয়া হয়নি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন একতরফা তথ্য প্রকাশ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, হলুদ সাংবাদিকতা ও আংশিক তথ্য প্রকাশ বন্ধ করে প্রকৃত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।