বাংলাদেশের চামড়া শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিতে অতীতে যেমন একটি বিশাল সম্ভাবনাময় খাত ছিল, তা এখনো সমভাবে আছে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের মাননীয় শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) চামড়া শিল্প নগরীর ট্যানারির কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) সরজমিনে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। বিসিক চামড়া শিল্প নগরী পরিদর্শনের আগে মন্ত্রী বিসিকের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় বিভিন্ন ট্যানারি মালিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিগত সরকারের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘বিগত সময়ে ঢাকা শহরের হাজারীবাগ থেকে যে দায়সারা উপায়ে সাভারে চামড়া শিল্প হস্তান্তর করা হয়েছে, ঠিক সেই উপায়ে এই অত্যন্ত সম্ভাবনাময় শিল্পকে চরম অবহেলা ও অবজ্ঞা করা হয়েছে। সঠিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ না করার কারণে চামড়া শিল্প বিগত বছরগুলোতে তার কাঙ্খিত ও কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগোয়নি। বরং পূর্ববর্তী বছরগুলোতে নানা অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতকে সম্পূর্ণ নষ্ট করা হয়েছে।’
চামড়া খাতের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সারা বছরে আমাদের বাংলাদেশে যে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া আহরিত ও সংগৃহীত হয়, তার পুরোটা যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে আমরা সঠিকভাবে রপ্তানি খাতে কাজে লাগাতে পারতাম, তাহলে আজ এটি বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বৃহত্তম অর্থাৎ ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল রপ্তানি আয়ের খাতে পরিণত হতে পারতো। আমরা এই সম্ভাবনাকে হারিয়ে যেতে দেব না।’ সিইটিপির বর্তমান দুরবস্থা নিয়ে ট্যানারি মালিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘সাভার ট্যানারি পল্লীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) দীর্ঘদিনের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও সকল কার্যকর সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে।’
বিসিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ট্যানারি মালিকরা সাভার চামড়া শিল্প নগরীর গ্যাস, পানি ও সিইটিপির আধুনিকীকরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রশাসনিক জটিলতাগুলো মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। শিল্পমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শোনেন এবং বিসিক কর্তৃপক্ষকে চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
চামড়া শিল্প নগরীর সিইটিপি পরিদর্শন ও এই মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) নেতৃবৃন্দ এবং সাভারের স্থানীয় ট্যানাড়ির মালিক ও চামড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ।