সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বরিশাল জেলা বিএনপির সম্মানিত আহ্বায়ক আবুল হোসেন খানসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত অপপ্রচার, মানহানিকর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে নিলয় পারভেজ নামের এক যুবককে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বাকেরগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা, কৌতূহল ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশের যৌথ সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার হওয়া নিলয় পারভেজ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের বাসিন্দা হযরত আলীর ছেলে। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিবারসহ ঢাকার ভাটারা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নিলয় পারভেজ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি “লায়ন নিলয় পারভেজ” ব্যবহার করে বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ বাকেরগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল ও মানহানিকর বক্তব্য ও স্ট্যাটাস প্রচার করে আসছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতাদের ছবি, ভিডিও ও এডিট করা আপত্তিকর কনটেন্ট পোস্ট করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে ছড়িয়ে দেন। তার এই বিতর্কিত পোস্টগুলোতে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষা ও উসকানিমূলক রাজনৈতিক মন্তব্য ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ফেসবুকে একাধিক ফেক আইডি ও বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে বাকেরগঞ্জের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি ধীরে ধীরে স্থানীয় সাধারণ বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও চরম প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে মূল দল ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সম্মানহানির অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মাঠপর্যায়ের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
এই ডিজিটাল অপরাধের ঘটনায় পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক মৃধা বাদী হয়ে নিলয় পারভেজকে একমাত্র আসামি করে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে—যা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে এবং এলাকায় সামাজিক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
মামলা দায়েরের পর আদালতের বিজ্ঞ বিচারক বাদীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে এজাহার গ্রহণের জন্য বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশকে সরাসরি নির্দেশ দেন। আদালতের সেই লিখিত নির্দেশনা পাওয়ার পর বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত আসামির অবস্থান শনাক্ত করে এবং দ্রুত রাজধানীর ভাটারা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নিলয় পারভেজকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তবে মামলার তদন্ত ও সার্বিক আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত যুবকের গ্রেফতারের খবর বাকেরগঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে এ ঘটনাকে “ডিজিটাল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সঠিক আইনগত পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো কনটেন্ট বা গুজব প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। সচেতন মহল মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে অনলাইন অপপ্রচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।