ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

আওয়ামী লীগের মতো বিএনপির নেতাকর্মীরা মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন: সারজিস আলম


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬ সময় : ৬:১৮ পিএম

বিদায়ী আওয়ামী লীগের মতো বর্তমান সরকারি দল বিএনপির নেতাকর্মীরাও দেশের মিডিয়া খাতকে সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির রাজশাহী মহানগর শাখা আয়োজিত এক বিশেষ রাজনৈতিক যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ বিস্ফোরক অভিযোগ করেন।

সারজিস আলম তাঁর বক্তব্যে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে মূলত আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ মেজর জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে। তারেক রহমান তাঁর যোগ্য পিতা-মাতার উত্তরসূরি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের সেবা করার জন্য রাজপথে একটা সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছেন। এখন তাঁকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তিনি জনগণের দেওয়া এই সুযোগটা ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাবেন কি না। কিন্তু আমরা যখন বর্তমানে দেখি আওয়ামী লীগের সময়ে যেভাবে দেশের মিডিয়া দখল করা হতো, ঠিক তাঁর সময়েও একই কায়দায় গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে কোনো ধরনের পেশাদার অভিজ্ঞতা ছাড়াই কেবল দলীয় নেতাকর্মী দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, তখন আমরা আগের যে ফ্যাসিবাদী বাংলাদেশ ছিল—সেই বাংলাদেশের স্পষ্ট লক্ষণ আমরা আবারও দেখতে পাই।’

সারজিস আলম আরও বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের আগে বাংলাদেশে যেভাবে ব্যাপক চাঁদাবাজি হতো, দুঃখজনকভাবে তা এখনও প্রকাশ্যে হচ্ছে। যে সমস্ত অন্যায় ও জুলুমের কারণে এ দেশে একটা বিশাল রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান হয়েছে, সেই একই নিন্দনীয় কাজগুলো যদি এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে আবারও নতুন করে হয়, তাহলে আমরা আগামী দিনে বিএনপির রাজনীতি নিয়ে ভীষণভাবে শঙ্কিত। আমরা তীব্রভাবে বিশ্বাস করি, এই গণবিরোধী পুরোনো ধারার রাজনীতি করে আগামীর নতুন বাংলাদেশে কেউ আর ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারবে না।’

সীমান্ত সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা অনেক সময় বলে থাকেন, আমরা শুধু নাকি কেবল বিরোধিতা করার জন্যই কথা বলি। কিন্তু আমরা কি আর সীমান্তে নির্বিচারে বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ড দেখতে চাই? আমরা কি এ দেশে অন্য কোনো প্রতিবেশী দেশের নগ্ন দাদাগিরি দেখতে চাই? যারা এই স্বৈরাচারী কাজগুলো ক্ষমতার মসনদে বসতে না আসতেই শুরু করে দিয়েছে, তাদের হাতে আগামী দিনে বাংলাদেশ কোনোভাবেই নিরাপদ হতে পারে না।’

এনসিপির এই শীর্ষ সংগঠক আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে ফিফটি পার্সেন্ট (৫০%) মানুষ ভোট দিয়েছে। তার মানে পরিষ্কার যে, দেশে এখনও অর্ধেক মানুষ আছে যারা বিএনপিকে ভোট দেয়নি। তাছাড়া যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে তিনমাস যেতে না যেতেই হাজার হাজার, লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ এখনই বিএনপির কর্মকাণ্ডের ওপর চরম হতাশ হয়ে পড়েছে। তারা এখন গভীরভাবে মনে করছে বিএনপি তাদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। দেশের সচেতন নাগরিকদের বিএনপির এই রাজনৈতিক প্রতারণার কথা মনে রেখে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভেবেচিন্তে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে হবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির এই যোগদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী। এ সময় মঞ্চে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্য সচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, অন্যতম যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন এনসিপির রাজশাহী মহানগরের সদস্যসচিব আতিকুর রহমান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর