গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে গর্ভবতী নারীদের জরুরি চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য ও নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মিরাজ মিয়ার ব্যক্তিগত বিশেষ উদ্যোগে ও অর্থায়নে এই জনকল্যাণমূলক সেবা চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পর থেকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রসূতি মায়েদের যেকোনো জরুরি ও জটিল পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানোর আধুনিক সুবিধা সুনিশ্চিত করাই মূলত এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। নতুন এই মানবিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের যেকোনো এলাকার যেকোনো গর্ভবতী নারী বা তাঁর পরিবার প্রয়োজনের মুহূর্তে বা গভীর রাতেও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি গ্রহণ করতে পারবেন। এর ফলে প্রসবকালীন জরুরি সময়ে যাতায়াতের দীর্ঘসূত্রতা বা পরিবহন সংকট অনেকাংশে কমে আসবে এবং যেকোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরোপকারী কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মিরাজ মিয়া তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, “গর্ভবতী মায়েদের ও নবজাতকের জীবনরক্ষা এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করাই মূলত আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। অনেক সময় প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় বা যাতায়াত ব্যবস্থার অভাবে মা ও শিশুর জীবন নিয়ে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি তৈরি হয়। সেই কঠিন ও রূঢ় বাস্তবতা থেকেই আমার নিজ উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর কার্যকর সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি সমাজসেবামূলক কাজের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য ও স্বপ্ন হলো গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এই ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে অর্থের অভাবে কেউ যেন যেকোনো ধরনের জরুরি চিকিৎসা সেবা থেকে কখনোই বঞ্চিত না হন। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে দ্রুত, নিরাপদ ও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান ও প্রথম অগ্রাধিকার।”
এদিকে এলাকার সর্বস্তরের স্থানীয় বাসিন্দারা এই চমৎকার ও মানবিক উদ্যোগকে অত্যন্ত আনন্দের সাথে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ে এমন দূরদর্শী ও মানবিক উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে অত্র অঞ্চলে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার বা ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে এবং জরুরি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় এক যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।