ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

"বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত একসাথে কাজ করলে দেশ বিশ্বসেরা হবে"


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬ সময় : ৬:৪৬ পিএম

চাঁদপুর প্রতিনিধি:

দেশের সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে লিবারেল এবং গণমুখী বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে) বেলা আড়াইটার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মহাপরিকল্পনার কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সারাদেশে আমরা যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মহতি উদ্যোগ নিয়েছি, তার মূল কারণ হচ্ছে আমাদের দেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ আছে এবং আমরা এই উৎপাদনকে আরো বহুগুণ বৃদ্ধি করতে চাই। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে খাদ্যের অভাব বা উচ্চমূল্যের জন্য কোনো একক মানুষকেও যেন কষ্ট পেতে না হয়। আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এই উর্বর মাটিতে সময় মতো এবং সঠিকভাবে সেচ সুবিধা দিতে পারলে যেকোনো ফসলেরই বাম্পার উৎপাদন সম্ভব।’

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেই আমরা দেশবাসীর কাছে খাল খনন কর্মসূচি চালুর কথা বলেছিলাম। কারণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে খাল খননের মধ্যদিয়ে আমাদের প্রান্তিক কৃষক ভাইয়েরা সরাসরি উপকৃত হবেন। কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হলে, তারা ধীরে ধীরে নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী হবে। আর এদেশের কৃষকদের সামগ্রিক উন্নতি ও অগ্রগতি নিশ্চিত হলেই বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি চিরতরে মজবুত হবে।’

নারীদের কল্যাণে চালু হওয়া ঐতিহাসিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটিও নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া আমাদের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল। এই কার্ড চালুর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। এই বিশেষ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে একজন সম্মানিত মা সরাসরি আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান পাবেন। এই প্রাপ্ত টাকা দিয়ে মায়েরা তাঁদের পরিবারের সন্তানদের যত্ন, পুষ্টি ও জরুরি স্বাস্থ্য সেবার কাজে লাগাতে পারবেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বাজেট থেকেই এই কার্ডের অর্থ দেয়া হচ্ছে। তবে আমাদের সরকারের আগামী পূর্ণাঙ্গ বাজেটে এই খাতের বরাদ্দ আরো বড় আকারে বৃদ্ধি করা হবে।’

নারী শিক্ষার প্রসারে বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। অতীতে আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার আধুনিকায়নে ও প্রাথমিক উন্নয়নে যুগান্তকারী কাজ করেছিলেন। তিনি তৎকালীন সময়ে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যন্ত মেয়েদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ার সুবর্ণ ব্যবস্থা করেছিলেন। আমাদের বর্তমান সরকার নারী শিক্ষাকে আরও এগিয়ে নিতে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে পড়ার আইনি ব্যবস্থা করবে। একই সাথে ছাত্রীদের মধ্যে যারা মেধারী, তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উপবৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর কারণ হচ্ছে, দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী ও শিক্ষিত না করে কোনোভাবেই দেশকে বিশ্বের বুকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব না।’

তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারের পবিত্র প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, দেশব্যাপী খাল খনন এবং তরুণ সমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ও কারিগরি প্রশিক্ষিত করে বিদেশে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। একই সাথে দেশেও তাদের কর্মসংস্থান তৈরী করা। আমরা যদি যুবসমাজের জন্য এগুলো করতে পারি, তবেই কেবল জুলাই-আগস্টের বীর শহীদদের মহান আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা দেয়া সম্ভব হবে।’

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত লক্ষাধিক জনতার উদ্দেশ্যে এক জাতীয় প্রতিজ্ঞা করवून বলেন, ‘আজকের এই খোর্দ্দ খাল খনন অনুষ্ঠান থেকে আমরা সকলে মিলে এক সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা করি, সেই প্রতিজ্ঞা হচ্ছে যেকোনো মূল্যে এই প্রিয় দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এর জন্য আমাদের সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের বিশ কোটি মানুষের রয়েছে চল্লিশ কোটি হাত। এই চল্লিশ কোটি হাত যদি দেশ গড়ার লক্ষ্যে একসাথে কাজ করে, তবে আমরা খুব দ্রুতই বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি উন্নত ও পরম মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।’

শাহরাস্তি উপজেলা ও জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশাল উদ্বোধনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হক। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম এবং শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়াত আলী ভুঁইয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর