চাঁদপুর প্রতিনিধি
বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে এ দেশের সাধারণ মানুষের বিপুল অর্থ তছরুপ করা হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দেখেছি বিগত ১৬ বছর এই দেশের মানুষের লক্ষ-কোটি অর্থ বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছিল। এই দেশের মানুষের কষ্টার্জিত জাতীয় সম্পদ বিদেশে পাচার করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি ফোকলা করে দেওয়া হয়েছিল।’ শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৫টার দিকে চাঁদপুর সদরের ঐতিহ্যবাহী বিশ্বখাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসনের অবক্ষয় ও চিকিৎসাব্যবস্থার সংকটের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি কীভাবে প্রশাসনকে নগ্ন রাজনীতিকীকরণের মাধ্যমে প্রশাসনের যে স্বাভাবিক দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা, সেই দক্ষতাকে সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। আমরা আরও দেখেছি দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল কেবল আরেকটি দেশের চিকিৎসার সুযোগ ও সুবিধা বৃদ্ধি করার জন্য।’
জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া জনকল্যাণমুখী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের সাধারণ মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে পবিত্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, মহান আল্লাহর রহমতে সেই কাজ আমরা ইতিমধ্যেই সফলভাবে শুরু করেছি। নির্বাচনী ইশতেহারে দেশব্যাপী খাল খননের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আজ তা-ও বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আগামীতে বিশেষ কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমাদের প্রান্তিক কৃষকদের শতভাগ স্বাবলম্বী করা হবে। আমাদের এই দেশব্যাপী মহতী খাল খনন কর্মসূচির ফলে গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে শহরের ব্যবসায়ীসহ সব জায়গার মানুষ সমানভাবে উপকৃত হবে। দেশের মানুষের কল্যাণে আমরা যেসব যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, তার প্রতিটি আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করবো। এতে এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ প্রকৃত উপকৃত হবে। কারণ, আমাদের মূল রাজনীতিই হচ্ছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার রাজনীতি। আমাদের রাজনীতি হচ্ছে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার রাজনীতি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সুফলভোগী জনগণকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যখন জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সততার সাথে পালন করা শুরু করেছি, তখন কিছু স্বার্থান্বেষী ও সংক্ষুব্ধ মানুষ নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক ও মিথ্যা কথা বলছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও গণমুখী খাল খনন কর্মসূচি যাতে কোনো অপশক্তি বা ষড়যন্ত্রকারী কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য দেশের সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনরায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের মানুষ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন ছিল বলেই গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিএনপির পক্ষে তাদের ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। দেশের মানুষ আমাদের যেসব উন্নয়নমূলক কাজ করার পবিত্র রায় দিয়েছে, সেসব কাজ আমরা যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করবোই। এখন যদি কেউ এই জনকল্যাণমূলক কাজে বাধা দিতে চায়, তবে সচেতন মানুষই তাদের সেই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকে চিরতরে ভেস্তে দেবে। কোনো অবস্থাতেই ষড়যন্ত্রকারী ও বিভ্রান্তকারীদের পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।’ তিনি আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘জনগণই হচ্ছে আমাদের ও বিএনপির মূল রাজনৈতিক শক্তির একমাত্র উৎস। দেশের জনগণ যতক্ষণ আমাদের সমর্থন দিয়ে যাবে, আমরা ততক্ষণ দেশের ও দশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাব। জনগণের কল্যাণের পথ থেকে একবিন্দু পরিমাণ এদিক-ওদিক বা বিচ্যুত আমরা হব না।’
চাঁদপুর সদরের বিশ্বখাল পুনঃখননের এই উদ্বোধনী সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমদ মানিকসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।