ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

চন্ডীদাসগাঁতী ঘাটে সেতুর অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬ সময় : ৮:৫৮ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু ,  সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জ জেলার চন্ডীদাসগাঁতী বাজার থেকে সরাইচন্ডি, ধোপাপাড়া, রহিমপুর ও চর পদমপাল এলাকার হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র ভরসা এখনো একটি অস্থায়ী ঘাট। দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে নৌকা ছাড়া পারাপারের কোনো বিকল্প থাকে না, তখনই চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

বর্ষাকালে প্রবল স্রোত ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার মধ্যে নৌকায় পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও শ্রমজীবী মানুষ বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছেন। অনেক সময় ছোট নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, লাইফজ্যাকেটের অভাব এবং মাঝিদের অনভিজ্ঞতার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি শুধু একটি ঘাট নয় বরং পুরো অঞ্চলের জীবনরেখা। সরাইচন্ডি, ধোপাপাড়া, রহিমপুর ও চর পদমপাল এলাকার মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও জরুরি প্রয়োজনে এই পথের ওপর নির্ভরশীল। বিকল্প কোনো সহজ সড়ক যোগাযোগ না থাকায় এই ঘাটই তাদের একমাত্র ভরসা।

একজন স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ভয় নিয়ে স্কুলে যায়। নদী পার হতে গিয়ে অনেক সময় জামাকাপড় ভিজে যায়, বইপত্র নষ্ট হয়। সবচেয়ে বড় কথা, সবসময় প্রাণের ঝুঁকি থাকে। একটি স্থায়ী ব্রিজ হলে আমাদের এই কষ্ট আর থাকত না।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও একই অভিযোগ করেন। তাদের মতে, এই ঘাটের ওপর নির্ভর করেই এলাকার অর্থনীতি অনেকটা পরিচালিত হয়। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থার কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতি নিয়মিত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যার ফলে সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েন।

সম্প্রতি স্থানীয় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার পর এলাকাবাসীর ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। ধোপাপাড়া এলাকা থেকে একটি মরদেহ ভাঙাচোরা অস্থায়ী কাঠামোর ওপর দিয়ে চন্ডীদাসগাঁতী কবরস্থানে নেওয়ার সময় দেখা যায়, জীবিত মানুষের মতোই মৃত্যুর পরও এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এই দৃশ্য স্থানীয়দের আবেগপ্রবণ করে তোলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আজকে যখন লাশটা ওই ভাঙা পথ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল আমরা এখনো উন্নয়নের বাইরে পড়ে আছি। জীবিত মানুষ যেমন কষ্ট করে পার হয়, মৃত্যুর পরও সেই কষ্ট শেষ হয় না।”

এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো নতুন সমস্যা নয়। বহু বছর ধরে তারা এই ঘাটে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় হতাশা বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে কবে নাগাদ বাস্তব কাজ শুরু হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সচেতন মহল বলছে, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার এই সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এখনো যদি মানুষ নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—এই ঘাটে আর কোনো মানুষ যেন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার না হয়। বিশেষ করে কোনো মরদেহ বা জরুরি রোগীকেও যেন এই ভাঙা পথে নিয়ে যেতে না হয়। সবশেষে তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে বহু বছরের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ সেতু নির্মাণ করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর