ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

ঔপনিবেশিক প্রথায় ইতি

মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে তোয়ালে সরালেন থালাপতি বিজয়


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৩৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের সচিবালয়ে বহু দশকের পুরোনো ও চেনা এক দৃশ্য হলো উচ্চপদস্থ সরকারি বড় কর্মকর্তাদের বসার চেয়ারে সাদা তোয়ালে বিছিয়ে রাখা। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজকে মূলত অনেকে ক্ষমতা, আভিজাত্য ও আমলাতান্ত্রিক দূরত্বের এক প্রকাশ্য প্রতীক হিসেবেই দেখে আসছিলেন। তবে গত শুক্রবার (১৫ মে) থেকে আর সেই বহু পুরোনো ঔপনিবেশিক প্রথাতেই এবার কার্যত ইতি টানলেন তামিলনাড়ুর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী এবং দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় মেগাস্টার থালাপতি বিজয়।

গত ১০ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিনিয়ত আলোচনায় থাকছেন থালাপতি বিজয়। এবার তার দপ্তরের একটা সাধারণ ও ছোট পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড় ও ইতিবাচক ঝড় উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে তার বসার প্রধান চেয়ারে আর সেই চিরচেনা সাদা তোয়ালেটি আর দেখা যাচ্ছে না।

পুরো ঘটনার শুরু হয়েছিল মূলত ভারতের প্রখ্যাত সমাজকর্মী লিসিপ্রিয়া কাঞ্জুগামের একটি বিশেষ পোস্ট থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখা তার একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সরকারি অফিসগুলোতে কর্মকর্তাদের চেয়ারে এভাবে সাদা তোয়ালে পেতে রাখা এখনও আসলে প্রাচীন ঔপনিবেশিক মানসিকতারই প্রতীক বহন করে। শুধু মন্ত্রীরা নন, দেশের অনেক উচ্চপদস্থ আমলা ও সচিবদের ঘরেও এই একই প্রথা এখনও বীরদর্পে চলছে। তিনি তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কাছে করজোড়ে আবেদন জানান, এই প্রাচীন রেওয়াজটি চিরতরে বন্ধ করে সাধারণ মানুষের সামনে একটি নতুন ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সমাজকর্মীর সেই পোস্ট করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য সচিবালয়ে এক বিশাল পরিবর্তন চোখে পড়ে। গত ১৫ মে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের চেয়ারে আর কোনো সাদা তোয়ালে বিছানো ছিল না। পরে সরকার থেকে প্রকাশিত অফিসিয়াল ছবিগুলোতে অত্যন্ত স্পষ্ট দেখা গেল, মুখ্যমন্ত্রীর বসার চেয়ারটি একদম সাধারণ অবস্থায় রয়েছে—সেটির ওপরে অতিরিক্ত কোনো সাদা কাপড় বা তোয়ালে নেই।

এই তোয়ালে সরানোর বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি বা সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। তবে নেটদুনিয়ায় থালাপতি বিজয়ের এই উদ্যোগকে ‘প্রতীকী কিন্তু খুবই শক্তিশালী ও সাহসী পদক্ষেপ’ বলে সবাই সাধুবাদ জানাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, এর মাধ্যমে নতুন মুখ্যমন্ত্রী মূলত প্রশাসন ও রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমিয়ে আনার একটি জোরালো বার্তা দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এমন তড়িৎ সিদ্ধান্তে সমাজকর্মী লিসিপ্রিয়া কাঞ্জুগাম নিজেও বিজয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, জনগণের মনের অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একদম সঠিক ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইতিহাসবিদদের মতে, ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে উচ্চপদস্থ শ্বেতাঙ্গ কর্মকর্তাদের বিশেষ মর্যাদা, আভিজাত্য ও আরামের জন্যই মূলত এই তোয়ালে প্রথা চালু হয়েছিল। স্বাধীনতার এত বছর পার হয়ে গেলেও সেই দাসত্বমূলক সংস্কৃতি অনেক জায়গায় টিকে ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে থালাপতি বিজয়ের এই সিদ্ধান্তকে শুধু আসবাব বদল নয়, প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে একটা নতুন যুগের বার্তা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও এটি দেখতে একটি ছোট পরিবর্তন, কিন্তু এর রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তাটা বেশ বড়।



এ সম্পর্কিত আরো খবর