পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর আগে তাছলিমা খাতুনের সঙ্গে সাদ্দাম হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। নিহত তাছলিমা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নেশাগ্রস্ত স্বামী সাদ্দাম পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালাতেন।
নিহতের বড় মেয়ে সাদিয়া সুলতানা (১২) জানায়, তার বাবা প্রায়ই নেশা করে বাড়িতে এসে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করতেন। ঘটনার রাতে সে, তার ছোট ভাই নুর হোসেন (৯) ও দাদি পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। গভীর রাতে মায়ের গোঙানির শব্দ শুনে তার দাদি দ্রুত তাদের ডাক দেন। পরে সবাই মিলে তাছলিমার কক্ষে গিয়ে দেখেন, তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং পুরো ঘর রক্তে ভেসে গেছে।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাছলিমাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা নুরুজ্জামান অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন জামাই সাদ্দাম। বিশেষ করে নেশার টাকার জন্য প্রায়ই তাছলিমার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো। টাকা না পেলে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।
নুরুজ্জামান বলেন, “আমার মেয়েকে এভাবে হত্যা করা হবে কখনো ভাবিনি। আমি এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। তবে এমন ভয়াবহ পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।