ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭ দফা দাবি না মানলে আরেকটি বিপ্লব হবে: জামায়াত আমীর আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সুইজারল্যান্ডে রুমমেটের মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার আজ থেকে শুরু হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম মাঝপথেই সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন রাশিয়ার হামলা রুখতে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুকে হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাবার মামলা, বন্ধু দ্বীপ গ্রেপ্তার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু

সাতক্ষীরায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬ সময় : ৮:৫১ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা সদরের ভোমরা এলাকায় তাছলিমা খাতুন (৩৫) নামে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষীদাড়ি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে গেছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর আগে তাছলিমা খাতুনের সঙ্গে সাদ্দাম হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। নিহত তাছলিমা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নেশাগ্রস্ত স্বামী সাদ্দাম পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালাতেন।

নিহতের বড় মেয়ে সাদিয়া সুলতানা (১২) জানায়, তার বাবা প্রায়ই নেশা করে বাড়িতে এসে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করতেন। ঘটনার রাতে সে, তার ছোট ভাই নুর হোসেন (৯) ও দাদি পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। গভীর রাতে মায়ের গোঙানির শব্দ শুনে তার দাদি দ্রুত তাদের ডাক দেন। পরে সবাই মিলে তাছলিমার কক্ষে গিয়ে দেখেন, তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং পুরো ঘর রক্তে ভেসে গেছে।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাছলিমাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা নুরুজ্জামান অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন জামাই সাদ্দাম। বিশেষ করে নেশার টাকার জন্য প্রায়ই তাছলিমার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো। টাকা না পেলে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

নুরুজ্জামান বলেন, “আমার মেয়েকে এভাবে হত্যা করা হবে কখনো ভাবিনি। আমি এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। তবে এমন ভয়াবহ পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর