নড়াইল-এ টলি ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। সোমবার (১৮ মে) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার কালনা–নড়াইল সড়কের তালতলা ঘোষবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে তালতলা এলাকায় দ্রুতগতিতে আসা একটি টলির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুটি যানবাহনই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান এবং আরও চারজন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। আহতদের দ্রুত নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
নড়াইল হাইওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো: কামরুল জানান, নিহতের নাম মনজুরুল ইসলাম বাবু। তিনি সাতক্ষীরার গোয়াল বাথান গ্রামের হাসেম আলীর ছেলে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত টলি ও পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
নড়াইল সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিহত মনজুরুল ইসলাম বাবুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা জানান, কালনা–নড়াইল সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করে। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা সড়কে যান চলাচলে আরও কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি এবং অসতর্কতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।