ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

কটিয়াদীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৮ মে, ২০২৬ সময় : ৮:২৬ পিএম

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নিখোঁজের চার দিন পর জিল্লুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার পৌর এলাকার ভোগপাড়া মহল্লায় কটিয়াদী-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত জিল্লুর রহমান নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরগোহালবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবার নিয়ে কটিয়াদী পৌর সদরে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জিল্লুর রহমান কটিয়াদী বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ‘মুন ডিজিটাল স্টুডিও অ্যান্ড কালার ল্যাব’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। পাশাপাশি ‘অন-টাইম প্লেট অ্যান্ড গ্লাস’ নামে আরেকটি কারখানাও ছিল তার। ব্যবসায়িকভাবে তিনি এলাকায় বেশ পরিচিত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে নাশতা করে বাসা থেকে বের হন জিল্লুর রহমান। এরপর দুপুরের দিকে তার সঙ্গে সর্বশেষ মোবাইলে কথা হয় পরিবারের সদস্যদের। পরে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর সোমবার সকালে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় তার অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পরপরই কটিয়াদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফাজ্জল হোসেনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিহতের স্ত্রী অন্তরা জানান, “শুক্রবার সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর দুপুরে শেষবার কথা হয়। এরপর আর কোনো যোগাযোগ করা যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তার মরদেহ দেখতে পাই।”
কারখানার দুই নারী কর্মী মদিনা ও শারমিন জানান, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে তারা সর্বশেষ কারখানায় কাজ করেন। এরপর তাদের আর কাজে ডাকা হয়নি। তারা আরও জানান, সেখানে একজন ড্রাইভারও কাজ করতেন, তবে তার নাম-পরিচয় তারা জানেন না। ঘটনার পর থেকে ওই ব্যক্তিরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুল হাশিম বলেন, “জিল্লুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন। আমাদের জানামতে তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, নিহতের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরিবার থেকে আগে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঢাকা টুডে / আরজে 



এ সম্পর্কিত আরো খবর