অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের অন্যতম মূলহোতাসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। গ্রেফতারকৃতরা হলেন নীলফামারীর সৈয়দপুর এলাকার মোঃ খাইরুল ইসলাম (২৪) ও মোঃ জাবেদুল ইসলাম (৩৮)। পিবিআই সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার মামলা নং-২২, তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২২ ধারায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
মামলার বাদী মোহাম্মদ সামাল অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র অস্ট্রেলিয়ার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। উচ্চ বেতনে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে বাদী ও তার স্বজনদের বিকাশ নম্বর থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। একপর্যায়ে প্রতারকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলে তিনি সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। পরে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন বিকাশ নম্বরগুলোর কেওয়াইসি ও লেনদেন পর্যালোচনা করে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্তের পর গত ১৭ মে নীলফামারীর সৈয়দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত খাইরুল ইসলাম পেশায় একজন অটোচালক। চক্রের মূল পলাতক সদস্য ‘প্রাণ ইসলাম’ তাকে ভুয়া ভিডিও তৈরির প্রশিক্ষণ দেয় এবং ‘আরিফ মন্ডল’ নামে সৌদি প্রবাসী পরিচয়ে ভিডিও বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালায়। এসব ভিডিওতে স্বল্প খরচে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার মিথ্যা সফলতার গল্প তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হতো। ভিডিও তৈরির বিনিময়ে খাইরুলকে আড়াই লাখ টাকা দেওয়া হয়। অপরদিকে গ্রেফতারকৃত জাবেদুল ইসলাম বিকাশের ডিএসও (DSO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি নিজের অবস্থানের অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে আদায়কৃত টাকা বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে ক্যাশ আউট ও অবৈধ লেনদেনের গতিপথ পরিবর্তনে সহায়তা করতেন। এজন্য তিনি কমিশনও নিতেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই আরও জানায়, চক্রটি গত চার মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। মঙ্গলবার ১৯ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে পিবিআই। এ বিষয়ে পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, চক্রের অন্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান আছে।