ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ভোরে খুলনা মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ গেল এক নারীর, আহত ৫


  • আপলোড সময় : বুধবার ২০ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৫০ পিএম

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার ভোরে হাসপাতালের পুরোনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটসংলগ্ন একটি স্টোররুমে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের পর পুরো হাসপাতাল এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইসিইউ থেকে রোগীদের দ্রুত সরানোর সময় এক নারী রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ধোঁয়া ও আগুনে ঝলসে দুই নার্সসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। নিহত রোগীর নাম নাসরিন নাহার। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নাসরিন নাহার আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগুন লাগার পর তাকে দ্রুত বাইরে বের করা হলে হাসপাতালের বারান্দাতেই তার মৃত্যু হয়। একই আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা শেখ আবুল হাসেম (৯৬) নামের দিঘলিয়া উপজেলার আরেক রোগী আগুন লাগার আগেই ভোর পাঁচটার দিকে মারা যান বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত পুরোনো আইসিইউ ইউনিটের পাশের একটি স্টোররুমে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট একে একে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দমকল বাহিনীর প্রায় এক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টার পর সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের ১ নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ জন মুমূর্ষু রোগীকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। চারদিকে তীব্র ধোঁয়া ও চরম আতঙ্কের মধ্যে এই জটিল রোগী স্থানান্তরের সময় পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে।

হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ দিলীপ কুমার জানান, পুরোনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে আগুন লাগে, যেখানে পুরোনো কাপড় ও হাসপাতালের কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে থাকা কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরোনো এসি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে আইসিইউর দেয়ালের একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় প্রচণ্ড ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, ধোঁয়ার মধ্যে যখন চিকিৎসকেরা রোগীদের স্থানান্তর করছিলেন, ঠিক তখন আতঙ্কিত হয়ে নাসরিন নাহারের স্বজনেরা তাকে নিজেরাই তড়িঘড়ি করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্ট বা ভেন্টিলেশন যুক্ত রোগী স্থানান্তরের একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাকৌশল ও প্রক্রিয়া আছে। স্বজনেরা নিজেরাই ভেন্টিলেশন খুলে বাইরে বের করার চেষ্টা করায় পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে বারান্দায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

ভয়াবহ এই আগুন ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে গিয়ে দুই নার্সসহ পাঁচজন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা হলেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মী তৌহিদ। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই নার্সকে চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের প্রত্যক্ষদর্শী কর্মচারীরা জানান, ধোঁয়ার কারণে ইমার্জেন্সি ওটি ও পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের জরুরি দরজা দিয়ে বের করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আটকে পড়া নার্সদের উদ্ধার করেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা এসি বিস্ফোরণ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর