সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনার বুকে যদি সাহস থাকে, তবে তিনি দেশে ফিরে এসে আদালতে আত্মসমর্পণ করুন, আমরাও সেটিই চাই। আজ সকালে সাভারের পশ্চিম ব্যাংক টাউন এলাকায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্মাণাধীন একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, বিগত ৫ আগস্ট তিনি যেভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, এরপর তিনি কীভাবে দেশে ফিরবেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এ দেশের সাধারণ মানুষও চায় যে তিনি দেশে ফিরে আসুক এবং আদালতের মুখোমুখি হয়ে আত্মসমর্পণ করুক। দেশের প্রচলিত আইন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর সবার আস্থা রাখা উচিত। বর্তমান সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছে। দুর্নীতি ও অনিয়ম করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ এই সরকারের আমলে অন্তত কারও নেই। ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা জনগণের অর্থের অপচয় করলে তাকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
সাভারের এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্রীড়া কমপ্লেক্স প্রকল্পের পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা স্পষ্ট জানান, এই প্রকল্পের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায় বা তিনি যদি দুর্নীতি করে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমস্ত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই অত্যন্ত সুচারুভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
এদিকে প্রকল্প পরিদর্শনের সময় এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রকল্প পরিচালকের দুর্নীতির বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করা শুরু করলে, প্রকল্প পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে চলমান আলোচনা বা মিটিংয়ে আর অংশগ্রহণ করেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত নিজের গাড়ি নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে চলে যান। প্রকল্প পরিচালকের এমন আকস্মিক চলে যাওয়া নিয়ে উপস্থিত সকলের মাঝে নানা গুঞ্জন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি কাজের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও কর্মকর্তাদের একাংশের এমন আচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন উপদেষ্টা।