সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
শ্রেণিকক্ষে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (স:) নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকারকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় জনতা তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
গৌরাঙ্গ সরকার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খেজুরডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) জামিলুজ্জামান জানান, সোমবার নবম শ্রেণির গণিত ক্লাস চলাকালে শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে ফজরের আযান এবং মহানবী (স:) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি দ্রুত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরদিন মঙ্গলবার স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে সদর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর বিদ্যালয় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাহিদুল আলম বলেন, “বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকারকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোনো মন্তব্য বা আচরণ যেন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকা প্রয়োজন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ও শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সময় দায়িত্বশীল আচরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনো কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।