ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

কঙ্গোয় ইবোলার বিধ্বংসী রূপ

প্রাণঘাতী ইবোলার নতুন টিকা আসতে সময় লাগবে ৯ মাস!


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬ সময় : ৯:৪৮ এএম

ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী রোগ ইবোলার টিকা বাজারে আসতে আরও অন্তত ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগতে পারে। জাতিসংঘের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক অঙ্গসংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গবেষণা ও উন্নয়ন ব্লুপ্রিন্ট বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি বুধবার (২০ মে) জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সদরদপ্তরে আয়োজিত ওই জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ড. ভাসি মূর্তি বলেন, বর্তমানে ছড়াতে থাকা ইবোলা ভাইরাসের অত্যন্ত বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতি বা ধরনের বিস্তার থামাতে ইতোমধ্যে দুটি সম্ভাব্য ‘ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন’ বা পরীক্ষামূলক টিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে এই টিকার ডোজগুলো এখনও মানুষের শরীরে প্রয়োগ বা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সবচেয়ে সম্ভাবনাময় যে টিকাটি নিয়ে কাজ চলছে, সেটি মূলত পূর্বের ‘জাইর’ প্রজাতির ইবোলা টিকার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দেওয়ার মতো কোনো ডোজ প্রস্তুত নেই। ল্যাবরেটরিতে টিকা সম্পূর্ণভাবে তৈরি করা এবং তারপর মানুষের শরীরে সফলভাবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ করে তা ব্যবহারের উপযোগী করতে অন্তত ৯ মাস সময় লেগে যেতে পারে। অবশ্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিতে তৈরি অন্য একটি বিকল্প টিকার ডোজ আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ট্রায়ালের জন্য পাওয়া যেতে পারে, তবে সেটির কার্যকারিতা নিয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে।

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসটি বর্তমানে প্রায় মহামারি পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আগের দিন মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, কঙ্গোতে এ পর্যন্ত ইবোলার উপসর্গজনিত কারণে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও প্রায় ৬০০ জনের মধ্যে এই বিপজ্জনক রোগের মারাত্মক লক্ষণ ও উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক আরও জানান, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের সশস্ত্র সংঘাত এবং লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুতির কারণে সেখানে রোগটি দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা পালিয়ে যাওয়ায় আক্রান্তদের সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্ভবত মে মাসের শুরুতে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মতো বড় জমায়েত থেকে এই রোগটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি আরও স্পষ্ট করে বলেন, কঙ্গোতে যাদের মধ্যে ইবোলার উপসর্গ দেখা দিয়েছে— তাদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫১ জন ইবোলাতে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া কঙ্গোর এই প্রাদুর্ভাবের জেরে পার্শ্ববর্তী দেশ উগান্ডাতেও ইতোমধ্যে ২ জন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন কঙ্গো থেকে আসা বয়স্ক ব্যক্তি মারা গেছেন।

কঙ্গো এবং উগান্ডায় ইবোলার এই বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাবের জেরে গত ১৭ মে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা বা ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন’ ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটি আশ্বস্ত করে জানায় যে, ইবোলার এই প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি কঙ্গো ও আফ্রিকার আঞ্চলিক পর্যায়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, বৈশ্বিক স্তরে এর ঝুঁকি এখনও বেশ কম এবং পরিস্থিতি এখনও বিশ্বমহামারি বা প্যান্ডেমিক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। যেহেতু বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি চিকিৎসা নেই, তাই আক্রান্তদের আইসোলেশন বা আলাদা রাখা এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখে দ্রুত নিবিড় সেবা দেওয়ার মাধ্যমেই জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর