আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসাগুলোতে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী চেতনা জোরদারের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগের কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও জাতীয় চেতনাবোধ গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া প্রয়োজন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সব মাদ্রাসায় নিয়মিতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, এটি শুধু একটি গান নয়, বরং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস ও দেশপ্রেমের প্রতীক।
তবে তার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিভাজনের রাজনীতি তৈরি করা হচ্ছে। অনেকেই এটিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাংস্কৃতিক চাপ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশপ্রেম শেখানোর নামে কোনো নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক মত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তারা বলছেন, সংবিধান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।
ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইস্যু এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সামনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বিভিন্ন দল নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নানা ইস্যু সামনে আনছে।
‘বন্দে মাতরম’ গানটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে অতীতেও গানটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশের মধ্যে এ গান নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াতে পারে। একই সঙ্গে এটি শিক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।