ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬ সময় : ৪:৫৪ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বকেয়া বেতন, বাৎসরিক ছুটির টাকা, বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট ও উৎসব ভাতা পরিশোধের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গাজীপুরের পোশাক খাত। গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় পৃথক দুটি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। ঈদ ঘনিয়ে এলেও পাওনা অর্থ না পাওয়ায় শিল্পাঞ্চলজুড়ে শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পোশাক কারখানা ‘কেয়া নীট কম্পোজিট লিমিটেড’-এর শ্রমিকরা গত দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই দফায় দফায় আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এর আগে গত ১৭ মে সন্ধ্যা থেকে কারখানার ডাইং ও নিটিং সেকশনের শ্রমিকরা প্রথম কাজ বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান নেন। এরপর গত রোববার সন্ধ্যা থেকে তাদের এই কর্মবিরতি আরও জোরালো ও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, কেয়া নীট কম্পোজিট কারখানা কর্তৃপক্ষ গত ২০ মে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পুরোপুরি পরিশোধের স্পষ্ট আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ প্রদান করা হয়নি। মালিকপক্ষের এমন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কারখানার সুইং সেকশনের হাজার হাজার শ্রমিকও এই কর্মবিরতিতে যোগ দেন। এর ফলে কার্যত পুরো কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডাইং অপারেটর বলেন, "আমাদের দুই মাসের বেতন বকেয়া। সামনেই কোরবানির ঈদ। সবাই যখন কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত, তখন আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকার দুশ্চিন্তায় আন্দোলনের মাঠে। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কাজে ফিরবো না।"

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শুধু সাধারণ শ্রমিকরাই নয়, কেয়া নীট কম্পোজিট লিমিটেডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বেতন সংকটে রয়েছেন। অনেক স্টাফের ১৫ থেকে ২০ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বকেয়া না পাওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তিনি কোনো কথা না বলে ফোন কেটে দেন।

অন্যদিকে, কোনাবাড়ীর বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত ‘তমিজউদ্দীন টেক্সটাইল মিলস্ পিএলসি’-এর শ্রমিকরাও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কারখানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবি, বাৎসরিক ছুটির জমানো টাকা, ইনক্রিমেন্ট এবং মে মাসের অর্ধেক বেতন ঈদের আগেই পরিশোধ করতে হবে। মো: আতিকুল ইসলাম নামে এক রিং অপারেটর অভিযোগ করে বলেন, "আমরা অসুস্থ হলেও ছুটি দেয় না কর্তৃপক্ষ। বছরের পর বছর কাজ করেও ন্যায্য অধিকার পাচ্ছি না।" পরিস্থিতি সামাল দিতে তমিজউদ্দীন টেক্সটাইল মিলস্ পিএলসি কর্তৃপক্ষ মূল ফটকে নোটিশ টানিয়ে জানিয়েছে, আগামী ২৪ মে পবিত্র ঈদুল আজহার বোনাস এবং বিটিএমএ ঘোষিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মে মাসের বেতন পরিশোধ করা হবে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, "কেয়া নীট কম্পোজিটে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতির খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছি।" ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর