আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে বোমারু বিমান, ড্রোন, নজরদারি বিমান, জ্বালানি সরবরাহ বিমানসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪২টি বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ নির্ধারণের প্রক্রিয়ার মতো নানা কারণে এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। হামলার ৪০ দিনের মাথায় গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়।
পেন্টাগন এ পর্যন্ত এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কোনো পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রকাশ করেনি। তবে মার্কিন কংগ্রেসকে নীতিনির্ধারণী ও আইনি তথ্য সরবরাহকারী গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস) জানিয়েছে, তারা মূলত প্রতিরক্ষা দপ্তর ও সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিভিন্ন বিবৃতি ও সংবাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তালিকা তৈরি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে: চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমান, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাংকার বা আকাশে জ্বালানি সরবরাহের বিমান এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ধ্বংস হওয়া ই-৩ সেন্ট্রি আগাম সতর্কবার্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসংবলিত বিমান। এছাড়া তালিকায় রয়েছে দুটি এমসি-১৩০-জে কমান্ডো টু স্পেশাল অপারেশন বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ ডব্লিউ জলি গ্রিন টু কমব্যাট সার্চ-অ্যান্ড-রেসকিউ হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন সম্প্রতি জানিয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউরির আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ব্যয় এরই মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি (২৯ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছেছে। ১২ মে এক শুনানিতে পেন্টাগনের অর্থবিষয়ক প্রধান জুলস হার্স্ট বলেন, খরচ বেড়ে যাওয়ার বড় কারণ, যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের যেসব অস্ত্রশস্ত্র বা যন্ত্রপাতি ভেঙেছে বা নষ্ট হয়েছে, সেগুলো মেরামত করতে অথবা সেগুলোর বদলে নতুন সরঞ্জাম কিনতে আসলে কত অর্থ লাগবে, তার একটি নিখুঁত হিসাব আমরা এখন পেয়েছি। ফলে মোট ব্যয় আগের অনুমানের চেয়ে বেড়ে গেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিআরএসের প্রতিবেদনটি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির আগে যে যুদ্ধ হয়েছে, সেখান থেকে ইরান অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রই তা স্বীকার করেছে। আরাগচি সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্প যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেন, তবে তেহরান তাদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মার্কিন বাহিনীর সামনে ‘আরও অনেক চমক’ হাজির করবে। তিনি আরও লেখেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর মার্কিন কংগ্রেস বিলিয়ন ডলার মূল্যের ডজন ডজন বিমান হারানোর কথা স্বীকার করল। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীই যে তাদের বহুল আলোচিত এফ-৩৫ প্রথম ভূপাতিত করেছে, সেটি এখন নিশ্চিত হলো।
আকাশজমিন / আরআর