রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
রূপগঞ্জে ইসলামিক টিভির সাংবাদিক আল আমিন মিয়ার ওপর হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় এখনো মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের বানিয়াদী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় সাংবাদিক আল আমিন মিয়াকে উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাংবাদিক আল আমিন মিয়া জানান, রূপগঞ্জ থানা থেকে মাদকের তথ্য সংগ্রহ শেষে থানার ওসি এএইচএম সালাহউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে নিজ বাড়ি বানিয়াদী এলাকায় ফিরছিলেন তিনি। পথে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
তার অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতা ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বানিয়াদী এলাকার সাদুর ছেলে ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি কামাল হোসেন এবং ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনির হোসেনের নির্দেশে হামলাটি চালানো হয়।
হামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলার মাসিমপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম (৪০), বানিয়াদী গ্রামের মোসলেম মিয়ার ছেলে যুবদল নেতা বিপ্লব (৩৫), লেহাজ উদ্দিনের ছেলে যুবদল নেতা জুয়েল (৪০), ভুট্টোর ছেলে যুবদল নেতা অমিত (২৮), তাইজুদ্দিনের ছেলে আরিফ (২৬), হজরত আলীর ছেলে দিপু (৩৫) এবং মুড়াপাড়া নগরের কুদুর ছেলে যুবদল নেতা নুর ইসলাম (৪২)সহ আরও ১৪ থেকে ১৫ জন।
আল আমিনের দাবি, হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ৩২ হাজার টাকা ও মোটরসাইকেল লুট করে নেয় তারা।
ঘটনার দুই দিন পার হলেও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় রূপগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত মামলা গ্রহণ ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাহউদ্দিন বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেয়েছি। মামলা অবশ্যই রুজু হবে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”