নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেয়ারিয়া এলাকায় একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও নগ্ন ভূমিদস্যুতার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কেয়ারিয়া এলাকায় এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত স্থানীয় সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।
উক্ত প্রতিবাদী মানববন্ধনে নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে এবং ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে বক্তব্য দেন মূল ভুক্তভোগী প্রকৌশলী পবিত্র চন্দ্র সরকার ও স্মৃতি রানী। এছাড়াও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক জজ মিয়া, যুবদল নেতা নাদিম মিয়াসহ ভুক্তভোগী পরিবারের অন্য সদস্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করে বলেন, "কেয়ারিয়া মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সম্প্রদায় ও মুসলমানরা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণভাবে একযোগে বসবাস করে আসছেন। এখানে কোনো সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ ছিল না। বিরোধপূর্ণ জমিটি মূলত ভুক্তভোগী সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি এবং প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা ওই জমি ও বসতবাড়ি বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন।" তাদের দাবি, সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত ভূমিদস্যু ওই মূল্যবান পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে বলেন, ইউসুফ ও জাহাঙ্গীর নামের দুই শীর্ষ ভূমিদস্যু এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ নির্দেশে ও ইন্ধনে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি বিশাল বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের বসতবাড়িতে অতর্কিত ও আকস্মিক হামলা চালায়। ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এই সুযোগে বাড়িতে থাকা অসহায় নারীদের সঙ্গে হামলাকারীরা অত্যন্ত অসভ্য ও অসদাচরণ করে এবং ধাক্কাধাক্কি চালায়। নারীরা পৈতৃক ভিটা রক্ষায় বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি পুরো ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করে।
মানববন্ধনে বক্তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "দেশের গর্বিত সেনাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন অমানবিক ও বেআইনি আচরণ আমরা কখনো আশা করেননি। জমির প্রকৃত মালিকানা আইনগতভাবে যাচাই না করেই সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে নিরীহ সংখ্যালঘু মানুষের ওপর এমন বর্বর হামলা চালানো অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক ঘটনা।" তারা প্রশ্ন তোলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাবেক কোনো কর্মকর্তার ভূমিকা যদি এমন আইনবিরোধী হয়, তাহলে সাধারণ অসহায় মানুষ জানমালের নিরাপত্তার জন্য কার কাছে যাবে?
মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার ও রূপগঞ্জবাসী বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযুক্ত ওই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যেন বিভাগীয় ও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ঘটনার মূল হোতা ইউসুফ ও জাহাঙ্গীরসহ সকল সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমাল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও জোর দাবি জানান তারা।