বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজিত ‘জাতীয় প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা–২০২৬’-এ মূকাভিনয় (মাইম) বিভাগে অনন্য সাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন সাতক্ষীরার কৃতী শিক্ষার্থী জান্নাত আলম। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের অত্যন্ত মেধাবী ও চটপটে এক শিক্ষার্থী।
গত বুধবার (২০ মে) জান্নাত আলমের এই গৌরবোজ্জ্বল ও অনবদ্য সাফল্যের খবরটি সাতক্ষীরায় পৌঁছালে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন, স্কাউটস পরিবার ও সামাজিক মহলে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন গ্রুপে কলেজের শিক্ষক, সহপাঠী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও জেলার সর্বস্তরের শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় সিক্ত করছেন। জেলার প্রতিটি কোণ থেকে জান্নাতের এই বিরল কৃতিত্বকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে অবস্থিত বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় সদর দফতরে দিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ এই চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশের সব কটি অঞ্চল ও জেলা থেকে উঠে আসা দেশসেরা সব দক্ষ প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে মূকাভিনয়ে নিজের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন জান্নাত। তার নিখুঁত অঙ্গভঙ্গি এবং শক্তিশালী সামাজিক বার্তা প্রতিযোগিতার বিচারকদের গভীরভাবে মুগ্ধ করে।
বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চল থেকে দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ২৫০ জন প্রতিযোগী ঢাকার চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। জাতীয় পর্যায়ের এই মেধা অন্বেষণে মূলত গান, নৃত্য, মূকাভিনয়, আবৃত্তি, কেরাত, আজান, বাংলা উপস্থাপনা ও চিত্রাঙ্কন—এই আটটি ভিন্ন ভিন্ন শিল্প মাধ্যমে তুমুল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সবচাইতে আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ মূকাভিনয় বিভাগে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন সাতক্ষীরার জান্নাত।
প্রতিযোগিতা শেষে এক জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। জান্নাত আলমের হাতে জাতীয় এই গৌরবময় পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোরশেদ। এ সময় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস জাতীয় সদর দফতরের উপপ্রধান জাতীয় কমিশনার মীর মাহবুবুর রহমান (স্নিগ্ধ), যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোঃ শামসুল হক এবং যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক (প্রোগ্রাম) আবুল হাসনাত মোঃ মুহসিনুল ইসলামসহ স্কাউটের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জান্নাত আলম সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা শেখ জুলফিকার আলম ও রাফিয়া পারভীন দম্পতির সুযোগ্য সন্তান। মেয়ের এমন অভাবনীয় সাফল্যে বাবা-মা দুজনেই অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।
এমন গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক সাফল্যে দারুণ উচ্ছ্বসিত জান্নাত আলম তাৎক্ষণিক অনুভূতি জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "এই অর্জনটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা এবং অত্যন্ত গৌরবের। স্কাউটসের মতো একটি সুশৃঙ্খল ও ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার দীর্ঘদিনের একটা লালিত স্বপ্ন ছিল আমার, যা পরম করুণাময়ের অশেষ কৃপায় এবার পূরণ হয়েছে। আমি আমার শিক্ষক, স্কাউট লিডার ও বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ।" নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জান্নাত বলেন, "ভবিষ্যতে পড়াশোনা শেষ করে একজন দক্ষ ও সৎ আইনজীবী হয়ে সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই। সকলের আন্তরিক দোয়া ও সহযোগিতা আমার এই পথচলাকে আরও শক্তিশালী করবে।"
উল্লেখ্য, জান্নাত অবশ্য এবারই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেননি, এর আগেও তার ঝুলিতে রয়েছে বড় বড় সাফল্য। এর আগে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির আয়োজনে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘উপস্থিত অভিনয়’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েও জাতীয় পর্যায়ে রানার্সআপ তথা দ্বিতীয় স্থান অর্জনের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে তার। জান্নাতের এই ধারাবাহিক সাফল্য সাতক্ষীরা জেলাকে দেশজুড়ে আরও একবার গর্বিত করলো।
আকাশজমিন / আরআর