সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 171
রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ঐতিহ্যবাহী কোরবানির পশুর হাটগুলো পুরোদমে জমে উঠেছে। তবে পশুর দাম নিয়ে এবার ক্রেতা ও বিক্রেতা— উভয় পক্ষের মধ্যেই তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। ক্রেতাদের দাবি, বাজারে পশুর দাম অন্যান্য বারের চেয়ে অনেক বেশি। অপরপক্ষে বিক্রেতারা বলছেন, গো-খাদ্যসহ সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে পশুর দাম অনেক কম মিলছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এ বছর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু না আসায় হাটগুলোতে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় প্রজাতির পশুর আমদানি হয়েছে।
সরেজমিনে তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী প্রতি বৃহস্পতিবারের নওগাঁ হাট, মঙ্গলবারের গুল্টা হাট এবং সপ্তাহে দুই দিন (সোমবার ও শুক্রবার) বসা তাড়াশ পৌর সদরের হাটে প্রচুর পরিমাণে গবাদিপশু উঠেছে। বাজারে বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা ও ক্রেতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, হাটে ছোট ও মাঝারি গরুর ভালো চাহিদা থাকায় এগুলো মোটামুটি যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় গরু আমদানির তুলনায় পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায়, খামারিরা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম দামে বড় গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পশু ব্যবসায়ীরা বলছেন, হাটে যে পরিমাণ গরু আমদানি হয়েছে, সেই তুলনায় পাইকারি ক্রেতা নেই। স্থানীয় সাধারণ ক্রেতারা কোরবানি দেওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে গরু কিনলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় বড় শহরের বেপারি ও ব্যবসায়ী দল এখনো তাড়াশের হাটগুলোতে পুরোদমে কেনাকাটা শুরু করেননি। ফলে সামগ্রিক বিক্রি তুলনামূলক কম। নওগাঁ হাটে সাধারণত কোরবানির ঈদের দুই-তিন সপ্তাহ আগে থেকেই গবাদিপশুর বেচাবিক্রি ধুমধাম জমে যায়। সেই তুলনায় এবার ঈদের বাকি আর মাত্র ৫ দিন, কিন্তু পশুর হাটে মূল বেচাবিক্রি এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় জমেনি।
তাড়াশ পৌরসভার ভাদাশ গ্রামের প্রান্তিক খামারি আছের আলী দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে জানান, “হাটে ৪টি দেশাল গরু এনেছি। হাটে ক্রেতার আনাগোনা ও ভিড় ভালো থাকলেও তারা দাম অনেক কম বলছেন। ক্রেতারা যে দাম হাঁকাচ্ছেন, তাতে আমাদের আসল চালান উঠতেই কষ্ট হবে, লাভ তো দূরের কথা। ঈদের আগ পর্যন্ত যদি বাজারের দাম এরকমই চড়া ও ক্রেতাহীন থাকে, তাহলে খামারিদের লস অনিবার্য। সামনে আর বেশি হাটও অবশিষ্ট নেই, তাই কোরবানির আগে পশুগুলো কাঙ্ক্ষিত মূল্যে বিক্রি করা নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি।”
হাটগুলোতে পশু ক্রয় করতে আসা একাধিক স্থানীয় ক্রেতা জানান, কোরবানি ঈদের আগে বাসায় পশু পালনের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তারা তাড়াশের হাট থেকে পশু কেনাকেই বেশি নিরাপদ মনে করেন। কারণ, পশু কেনার পর ঈদের আগের দিন পর্যন্ত অনেক সময় বিক্রেতার কাছেই লালন-পালনের দায়িত্ব দিয়ে রাখা যায়। তবে এবার বিক্রেতারা পশুর দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন। যেহেতু ঈদের আগে আর বেশি হাট বাকি নেই, তাই এর মধ্যেই দেখেশুনে বাজেটের মধ্যে কোরবানি করার মতো পশু কিনতে হবে।
নওগাঁ পশুর হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি জানান, গতবারের তুলনায় এবার হাটে গরুর সার্বিক আমদানি অনেক বেশি। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকেই হাটে কোরবানি উপলক্ষে প্রচুর গরুর আমদানি শুরু হচ্ছে। তবে আমদানির তুলনায় স্থানীয় পর্যায়ে বেচাবিক্রি কিছুটা ধীরগতির। ছোট-মাঝারি গরু বেশি বিক্রি হলেও সেই তুলনায় বড় গরু বিক্রি হচ্ছে কম। ঈদের আগে এখানে আর মাত্র দুই দিন পশুর হাট বসবে। এই শেষ দুই হাটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বড় বড় বাজারের বেপারি ও ব্যবসায়ীরা হাটে ঢুকলে বড় গরুর চাহিদা ও দাম দুই-ই বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আকাশজমিন /
আরআর