কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় এক শিশুকে অত্যন্ত নির্মম ও নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ এবং মাথায় আঘাত করে হত্যাচেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার তলাগ্রামের ভূঁইয়া বাড়িতে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। পাষণ্ড দুর্বৃত্তদের এমন হিংস্রতার শিকার মোঃ সোহেল ভূঁইয়ার একমাত্র ফুটফুটে ছেলে লাবিব (শিশু) বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মাথায় মারাত্মক আঘাত ও অক্সিজেনের অভাবে শিশুটি বর্তমানে গভীর কোমায় চলে গেছে এবং মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট সন্দেহে গত ১৯ মে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে বরুড়া থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো— তলাগ্রামেরই স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল হোসেন (১৯) এবং জাহিদ হোসেন (২৩)।
পারিবারিক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু লাবিব। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে চারদিকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে তলাগ্রামের একটি নির্জন ও পরিত্যক্ত স্থানে তাকে রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত এবং সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। লাবিবের এই করুণ দশা দেখে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন।
তাকে সেখান থেকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে এবং মাথায় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে জরুরিভিত্তিতে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শিশু লাবিবের মাথায় ভারী কোনো বস্তু বা অস্ত্র দিয়ে মারাত্মক আঘাত করা হয়েছে, যার ফলে তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। এর পাশাপাশি অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যার চূড়ান্ত চেষ্টা চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনো অব্দি তার জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকেরা তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে নিজেদের একমাত্র সন্তানের এমন নির্মম ও পৈশাচিক পরিণতিতে লাবিবের বাবা-মা ও পুরো পরিবারে চলছে বুকফাটা কান্নার রোল ও শোকের মাতম। নিষ্পাপ সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় নিজেদের কোলে ফিরে পেতে এবং তার জ্ঞান ফেরার আশায় দেশবাসীর কাছে আকুলভাবে দোয়া চেয়েছেন তার অসহায় ও বাকরুদ্ধ পরিবার। অন্যদিকে, শান্ত তলাগ্রামে এই নৃশংস ও কাপুরুষোচিত ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে স্থানীয় সর্বস্তরের এলাকাবাসীর মধ্যে। তারা এই জঘন্য অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত মূল হোতাদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
বরুড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক শত্রুতা কিংবা অপহরণের উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।