কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে স্বয়ং জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামানের জুতা চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে চুরির পর পরই ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে জেলা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে জুতা উদ্ধারসহ অভিযুক্ত চোরকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) জুমার নামাজের পর এই অদ্ভুত চুরির ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ লাইন্স মসজিদ সূত্রে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের ন্যায় গতকালও কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদে সাধারণ মুসল্লিদের সাথে জুমার নামাজ আদায় করছিলেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে জুতার নির্ধারিত তাকে নিজের জুতা খুঁজতে গিয়ে তিনি দেখেন উনার জুতা জোড়া সেখানে নেই। একজন পুলিশ সুপারের জুতা মসজিদ থেকে চুরি হওয়ার পর পরই পুরো এলাকায় তীব্র শোরগোল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে জানানো হলে ডিবির একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে মসজিদের চারপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চেক করা শুরু করে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের বের হওয়ার ভিড়ের সুযোগ নিয়ে গায়ে টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি জুতার তাকের ওপর থেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পুলিশ সুপারের জুতা জোড়া চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। অদ্ভুত বিষয় হলো, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, চোরের গায়ে থাকা টি-শার্টের ওপর বড় বড় অক্ষরে ‘খানদানি’ শব্দটি লেখা ছিল। এই ‘খানদানি’ লেখা টি-শার্টের সূত্র ধরেই চোরকে শনাক্ত করতে মাঠে নামে ডিবি পুলিশ।
যদিও এই স্পর্শকাতর ও কিছুটা বিব্রতকর জুতা চুরির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে বা বক্তব্য দিতে রাজি হননি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তবে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ সদস্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “স্যারের (পুলিশ সুপারের) জুতা চুরি যাওয়ার পর পরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। ফুটেজে দেখা যায়, জুতার তাকের ঠিক ওপরে স্যারের জুতা জোড়া রাখা ছিল। ‘খানদানি’ লেখা টি-শার্ট পরা একটি অল্পবয়সী ছেলে স্যারের জুতা জোড়া নিজের পায়ে দিয়ে অতি স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেঁটে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে চলে যাচ্ছে। এরপর ডিবির টিম দ্রুত বিভিন্ন স্থানে হানা দিয়ে চুরির মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই চোরকে জুতা জোড়াসহ হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়।”
এদিকে খোদ পুলিশ সুপারের জুতা চুরির এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মাঝে হাস্যরস ও বিভিন্ন ধরনের রসাত্মক মন্তব্য করতে দেখা যায়। তবে কুমিল্লার সচেতন সাধারণ মানুষ ঘটনাটিকে খুব একটা সহজভাবে নিচ্ছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা মহানগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়িতে চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইয়ের ঘটনা।
উদাহরণস্বরূপ, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) নগরের অন্যতম নিরাপদ, অভিজাত ও ব্যস্ততম এলাকা হিসেবে পরিচিত ঠাকুরপাড়ায় এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ছিনতাইয়ের একটি লাইভ সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরম ভাইরাল হয়েছে। এমন একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সুরক্ষিত পুলিশ লাইন্স মসজিদ থেকে স্বয়ং জেলা পুলিশ প্রধানের জুতা চুরির ঘটনাটিকে সাধারণ নাগরিকরা কুমিল্লার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবেই দেখছেন।