মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মাত্র ২০ টাকা বাকি পরিশোধ না করার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক সংখ্যালঘু পান ব্যবসায়ীকে গলা টিপে ও অণ্ডকোষে লাথি মেরে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) দুপুরে উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের জয়মন্টপ মাছ বাজারে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত পান বিক্রেতার নাম শ্রীবাস চন্দ্র সাহা। তিনি রংপুর জেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার মধ্যেপাড়া এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন এবং ওই এলাকার দীপ্ত সাহার বাবা ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জয়মন্টপ মাছ বাজারে শুক্রবার দুপুরে পান কেনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। অভিযুক্ত ইশা মোল্লা দীর্ঘদিন ধরেই নিহত শ্রীবাস চন্দ্র সাহার দোকান থেকে পান ক্রয় করতেন। ঘটনার দিন ইশা মোল্লা ওই দোকান থেকে ৩০ টাকার পান ক্রয় করেন এবং মাত্র ১০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি ২০ টাকা পরিশোধের জন্য পান বিক্রেতা শ্রীবাস চন্দ্র সাহা দাবি জানালে ইশা মোল্লা হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ইশা মোল্লা প্রথমে শ্রীবাস চন্দ্র সাহার গায়ে হাত তোলেন এবং এরপর তাঁকে জোরপূর্বক গলা চেপে ধরেন। এক পর্যায়ে তিনি ওই বৃদ্ধ পান বিক্রেতার অণ্ডকোষে সজোরে লাথি মারলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে বাজারে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জয়মন্টপ মাছ বাজারের ছোট দোকানটিই ছিল শ্রীবাস চন্দ্র সাহার জীবিকা অর্জনের একমাত্র মাধ্যম। তিনি অত্যন্ত সৎ ও পরোপকারী মানুষ ছিলেন। মানুষটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হলেও তাঁর মানবিকতায় স্থানীয়দের সঙ্গে গভীর সখ্যতা ছিল। অথচ সামান্য ২০ টাকা বাকির মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন একজন নিরীহ বৃদ্ধ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, যা বিবেকবান মানুষের কাছে অকল্পনীয়। ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে সামান্য টাকার জন্য একজন মানুষকে হত্যা করা হয়, সেখানে বিবেক ও সমাজের শিক্ষা সবই যেন মৃত। অপরাধী যেই হোক, তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। না হলে এমন নৃশংসতা একদিন আমাদের সবার জন্যই অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইশা মোল্লার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা সম্ভব হয়নি। তিনি উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ভাকুম গ্রামের ব্যাঙ্গা মার্কেট এলাকার আফাজুদ্দিন মোল্লার ছেলে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম ঢাকা টুডে-কে জানান, “ঘটনার বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
নিহত শ্রীবাস চন্দ্র সাহার এমন অকাল ও নৃসংশ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে। বিচারের দাবিতে সোচ্চার স্থানীয় সচেতন মহল এবং ব্যবসায়ী সমাজ।