নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভায় ভিজিএফ কার্ড ও চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন প্রকৃত হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। রোববার (২৪ মে) সকাল ১০টার দিকে তারাবো পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নারী-পুরুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী এবং দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যও এ সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, অতীতে যারা নিয়মিত ভিজিএফ কার্ডের আওতায় সহায়তা পেতেন, তাদের অনেকেই এবার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তারা। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা পুনঃনির্ধারণের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, অনেক দরিদ্র পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ তাদের নাম তালিকায় না রেখে অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক সংগঠন “ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ, তারাবো পৌরসভা”র নেতৃবৃন্দ পৌর প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পৌরসভা কার্যালয়ে যান। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ওয়ার্ডের খেটে খাওয়া মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ আল-আমিনের নেতৃত্বে পৌর প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিতে ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদকে সম্পৃক্ত করার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ইউসুফ চৌধুরী, সেক্রেটারি ও দৈনিক দিন প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি মোঃ ইসমাইল হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মকবুল আহমেদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও দৈনিক সমাচারের ক্রাইম রিপোর্টার বাদল মাস্টারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সদস্যরা।
ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ আল-আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর আমরা একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে সরকারি সহায়তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে।”
স্থানীয়দের মতে, ভিজিএফসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। তারা দ্রুত অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত হতদরিদ্রদের সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।